চাঁদপুরে ১ বছরে রেমিট্যান্স অর্জন ৯৪৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা

সজীব খান, চাঁদপুর :

চাঁদপুরে চলতি বছরের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী চাঁদপুরের বৈধ ৩ লাখ ৬৫ হাজার প্রবাসীর মাধ্যমে জেলার ৬ ব্যাংকের সব শাখার মাধ্যমে রেমিট্যান্স অর্জন হয়েছে ৯৪৮ কোটি ৪৭লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট চাঁদপুরের ৬ ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ৬ জানুয়ারি

২০২৬ এ তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের ২০টি শাখায় ১৪৯ কোটি ২০

লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স, জনতা ব্যাংকের ১৭টি শাখায় ৩২৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স, অগ্রণী ব্যাংকের ২১টি শাখায় ৩০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ২৮টি শাখায় ৯৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের ১৩টি শাখায় ৬২ কোটি টাকা। এদিকে জেলার ঐ সব ব্যাংক ২০২৫ সালে এক বছরে ২৩৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ৬৩ কোটি ৮৩ লাখ, অগ্রণী ব্যাংক ৬৯ কোটি ২৬ লাখ, জনতা ব্যাংক ৩২ কোটি ৩৬ লাখ, কৃষি ব্যাংক ৯৪ লাখ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

বর্তমান সরকার বৈধ রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ইতোমধ্যেই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। সরকার ভিআইপি লাউঞ্জে রেমিট্যান্স যোদ্ধাগণকে যথাযথ সম্মান প্রদানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে। কোনো প্রকার হয়রানি বা হেনস্থা হওয়ার অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, চাঁদপুরের মূখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. মমতাজ উদ্দিন বলেন, “প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নের গতিতে তরান্বিত করছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ডলারের সংকট নিরসনে অসামান্য অবদান রাখছে। পাশাপাশি রিজার্ভও বাড়ছে।” অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে গ্রাহককে ২.৫০% হারে প্রণোদনা দেওয়া হয়।

চাঁদপুরে রূপালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো রেমিট্যান্স। মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে বৈদেশিক রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চাঁদপুরসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের ভূমিকা অপরিহার্য। বিশেষ করে চাঁদপুরের গ্রামে-গঞ্জে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের কারণে প্রতিটি বাড়িতে দৃষ্টিনন্দন ভবন দেখা যাচ্ছে। রূপালী ব্যাংক তাদের সার্বিক লেনদেনের জন্য যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে থাকে।”

প্রসঙ্গত, চাঁদপুরের প্রবাসীদের শ্রমের বিনিময়ে পাঠানো রেমিট্যান্স জেলার প্রায় দুই শতাধিক ব্যাংক শাখা ও কয়েকশ’ শপিংমলে অর্থের তারল্য সৃষ্টি করছে। জেলায় প্রবাসীদের নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি, স্ব-স্ব এলাকায় অবকাঠামো, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

চাঁদপুর জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর তথ্যে জানা গেছে, বিশ্বের ১৬২টি দেশে ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন। দেশের অন্যান্য জেলার মধ্যে চাঁদপুরের অবস্থান ষষ্ঠ।

চাঁদপুরের জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয় সূত্র মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চাঁদপুরের বৈধ ৩ লাখ ৬৫ হাজার শ্রমজীবী নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে নিকটস্থ স্বজনদের কাছে ব্যাংক ও অন্যান্য এজেন্সির মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণ করেন। অবৈধ বা বিকাশ বা অন্যান্য মাধ্যমে আরও অসংখ্য রেমিট্যান্স রয়েছে যার কোনো পরিসংখ্যান জানা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব। এর পরের স্থান কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান ও লিবিয়া।

নদীমাতৃক চাঁদপুরের জন্য এটি একটি বিশাল প্রাপ্তি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চাঁদপুরের প্রবাসীদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব দেশগুলোতে – শ্রম করছেন। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঁদপুরের প্রবাসী কর্মজীবী রয়েছেন। তাঁরা এসব রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

চাঁদপুরের প্রবাসীগণ প্রতিমাসে বিভিন্ন অর্থলগ্নী আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণ করেন। কোনো কোনো ব্যাংক কেবলমাত্র গোপন একটি পিন নম্বরের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করছে। অনেক প্রবাসী গ্রাহক তাদের ব্যক্তিগত হিসাব থেকেও অর্থ প্রেরণ করেন।

চাঁদপুরের উত্তরা, ফার্মাস, মার্কেন্টাইল, প্রাইম, ডাচ-বাংলা, সিটি, ন্যাশনাল, – ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, ট্রাস্ট প্রভৃতি ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ এ লেনদেন করলেও চাঁদপুরে এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগীয় অফিস কুমিল্লায় থাকায় এবং বিকাশ লেনদেনের তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি।

৮ প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক রেমিট্যান্স দেশের রিজার্ভ বাড়াচ্ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংকের প্রতিটি বৈদেশিক রেমিট্যান্স ডেস্ক ও হেল্প ডেস্ক আলাদাভাবে খোলা হয়েছে। ব্যাংক শাখা সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। প্রবাসীরা টাকা প্রেরণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাংক গ্রাহককে কাঙ্খিত অংকের টাকা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত বিভিন্ন অর্থলগ্নি এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে পছন্দের ব্যাংক শাখায় অর্থ প্রেরণ করছেন।

প্রকাশিত : রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy