সম্পাদকীয়: দুর্নীতির অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা

বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) শত শত অভিযোগ জমা পড়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর ও উদ্বেগজনক ঘটনা। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে প্রায় সব উপদেষ্টার নামই অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছে। অভিযোগের প্রকৃতি বহুমাত্রিক—আয়কর ফাঁকি, অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক বদলি, টেন্ডার জালিয়াতি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, এমনকি বেআইনি বিটকয়েন লেনদেন পর্যন্ত।

অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন। অথচ সেই সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেই যদি দুর্নীতির পাহাড় জমে, তবে এটি জনগণের আস্থার প্রতি এক নির্মম আঘাত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক যথার্থই বলেছেন—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন বহুবার সমালোচিত হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিষ্ক্রিয় থাকার জন্য। এবারও যদি তারা অভিযোগগুলোকে আমলযোগ্য না করে ফেলে রাখে, তবে জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দুদককে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন।

জনগণ চায়, যারা ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে দুর্নীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ দুর্নীতির দায় শুধু ব্যক্তির নয়, এটি গোটা রাষ্ট্র ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদি প্রমাণিত হয় যে উপদেষ্টারা সত্যিই দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির জন্য এক বড় পরীক্ষা। এখন সময় এসেছে প্রমাণ করার যে, দুর্নীতি দমন কমিশন সত্যিই স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলে জনগণের আস্থা ফিরবে। অন্যথায়, দুর্নীতি দমনের নামে নতুন আরেকটি প্রহসনের জন্ম হবে।

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy