

সম্পাদকীয়
বাংলাদেশে সেতু নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। পদ্মা সেতু যেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে, তেমনি শরীয়তপুর-চাঁদপুরে মেঘনা নদীর ওপর প্রস্তাবিত ৮.০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের প্রায় ৩০টি জেলার মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

যাতায়াত ও সময় সাশ্রয়
বর্তমানে শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের মানুষকে ফেরির মাধ্যমে নদী পার হতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সেতুটি চালু হলে প্রতিবার ভ্রমণে প্রায় ১০০ মিনিট সময় এবং ৬৬ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। রাজধানী ঢাকাকে এড়িয়ে একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে, ফলে ঢাকার যানজটও কমবে।
শিল্প ও কর্মসংস্থান
সেতু নির্মাণ হলে আশপাশে নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এ অঞ্চলে আগ্রহী হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধি পাবে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সেতুটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ০.৭৬ শতাংশ অবদান রাখবে।
আঞ্চলিক সংযোগ
সেতুটি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ ও চাঁদপুরের সদর উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন দ্রুত হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামাজিক পরিবর্তন
যোগাযোগ সহজ হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে, কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছাবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ
বেনিফিট কস্ট রেশিও (BCR): ৪.৭৪
ইকোনোমিক ইন্টারনাল রেট অফ রিটার্ন (EIRR): ১৬.০১%
ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টারনাল রেট অফ রিটার্ন (FIRR): ৭.৫০%
এগুলো প্রমাণ করে যে প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক।
মেঘনা নদীর ওপর এই সেতু শুধু শরীয়তপুর ও চাঁদপুর নয়, বরং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে। সময় সাশ্রয়, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, আঞ্চলিক সংযোগ—সব মিলিয়ে এটি হবে বাংলাদেশের আরেকটি গেম চেঞ্জার মেগা প্রকল্প।
তাই বলা যায়, মেঘনায় ৮ কিমি সেতু শুধু নদী নয়, মানুষের ভাগ্যও পার করবে।
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ













