

বাঙালি সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। নববর্ষের উৎসব, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা কিংবা গ্রামীণ মেলা—সবই এই সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া ও বিশ্বায়নের প্রভাবে আজ এই সংস্কৃতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা

বাঙালি সংস্কৃতির মূল শক্তি হলো এর বহমানতা। গ্রামীণ জীবনের গান, পালাগান, কবিগান, লোকনৃত্য, হস্তশিল্প—সবই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়েছে। নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়, হালখাতা খোলা, পান্তা-ইলিশের আয়োজন আমাদের সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করেছে।
অবক্ষয়ের চিত্র
তবে দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, নগরায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারার কারণে লোকজ সংস্কৃতি ক্রমেই অবহেলিত হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব, বাণিজ্যিকীকরণ ও অযাচিত আধুনিকতা আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ক্ষয় করছে।
অযাচিত বিতর্ক
সংস্কৃতির বিকাশে মতবিরোধ স্বাভাবিক হলেও অযাচিত বিতর্ক প্রায়ই বিভাজন তৈরি করে। নববর্ষ উদযাপনকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কিংবা লোকজ উৎসবকে অশালীন বলে আখ্যায়িত করা সংস্কৃতির মূল স্রোতকে বাধাগ্রস্ত করে। সংস্কৃতি কোনো একক সম্প্রদায়ের নয়, বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত ঐতিহ্য।
করণীয়
ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতিকে শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা।
তরুণ প্রজন্মকে লোকজ উৎসবে সম্পৃক্ত করা।
গণমাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির ইতিবাচক প্রচার বাড়ানো।
বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব মোকাবিলায় নিজস্ব সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করা।
বাঙালি সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঐতিহ্যকে ধারণ করে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়াই হবে সঠিক পথ। অযাচিত বিতর্ক এড়িয়ে সংস্কৃতির বহমান স্রোতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। নববর্ষের শুভক্ষণে আমাদের অঙ্গীকার হোক—সংস্কৃতিকে রক্ষা, লালন ও বিকশিত করার।
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ













