

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্পেটিং সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো এলজিইডি সদরের এই নীরবতার সুযোগে কাজ বন্ধ না করে পুনরায় আরও বড় পরিসরে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ফুঁসে উঠেছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে এই অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের দারিয়াপুর রোড থেকে আনন্দবাজার (ময়নার বাজার) পর্যন্ত কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু শুরু থেকেই এই কাজে সরকারি নকশা ও মানদণ্ড অমান্য করে নানা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছিল। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় জনগণের পক্ষে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা কাজ পরিদর্শন করেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগের পর কাজ সংশোধন হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো প্রশাসনের উদাসীনতাকে পুঁজি করে পুনরায় আগের চেয়েও বেশি অনিয়ম করে তড়িঘড়ি রাস্তা শেষ করার চেষ্টা চলছে। সড়কের ডব্লিউবিএম (WBM) স্তরে অত্যন্ত নিম্নমানের ও পচা ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও সাব-বেজে খোয়ার তুলনায় অতিরিক্ত বালু মিশিয়ে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে।
অনেক জায়গায় নিয়ম অনুযায়ী ১০ ফুট রাস্তা করার কথা থাকলেও তা কমিয়ে মাত্র সাড়ে ৮ ফুট করা হয়েছে। এমনকি কিছু কিছু স্থানে সাব-বেজ তৈরি না করেই সরাসরি মাটির ওপরেই এজিং (ইটের সীমানা) বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সড়কের পাশে প্রয়োজনীয় শোল্ডার (মাটি ভরাট) ১ মিটার করার নিয়ম থাকলেও সেখানে মাত্র ৬ ইঞ্চি থেকে দেড় ফুট ভরাট করা হয়েছে এবং নির্ধারিত স্লোপ বা ঢালও যথাযথভাবে রাখা হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, এই পুরো নির্মাণকাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ উজ্জল মিয়ার চরম তদারকির ঘাটতি এবং রহস্যজনক নীরবতার কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভাবে নয়ছয় করার সাহস পাচ্ছে। লিখিত অভিযোগের পরও ব্যবস্থা না নিয়ে পুনরায় অনিয়ম করায় স্থানীয় জনগণের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলাম যাতে কাজটা ভালো হয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া তো হলোই না, উল্টো চোখের সামনে আরও খারাপভাবে মানহীন ইট ও বালু দিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে। আমরা এই প্রহসন মানবো না।” তারা অবিলম্বে এই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করে কাজ স্থগিত করা এবং সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী নতুন করে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তারা এই দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬

















