

স্টাফ রিপোর্টার :
চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি নতুন কয়েকটি মুখও ভোটারদের দৃষ্টি কাড়ছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ফলে পুরোনো অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে মৈশাদীতে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার আভাস, যা ভোটারদের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক আগ্রহ।

সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণার আগেই চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন। চা-স্টল থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। স্থানীয়দের ধারণা, দলীয় সিদ্ধান্ত ও তৃণমূলের সমর্থনের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র স্পষ্ট হবে।
মাঠ পর্যায়ের আলোচনায় যারা রয়েছেন:
জেলার শ্রেষ্ঠ সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক
সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু জাফর মোঃ সালেহ অলি পাটওয়ারী
জেলা কৃষক দলের সভাপতি মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ খোকন
মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান স্বপন
তবে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর নাম এখন পর্যন্ত আলোচনায় আসেনি। সব মিলিয়ে কে হচ্ছেন মৈশাদী ইউনিয়নের আগামী অভিভাবক, তা নির্ধারণ করবে জনগণ।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের বক্তব্য
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, “মানুষের সেবা, ডিজিটাল ইউনিয়ন পরিষদ গঠন, উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে জেলা প্রশাসন আমাকে জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে সম্মানিত করেছে। মৈশাদী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরপর পাঁচবার জেলার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। একদিনের আয়ে মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ জেলায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমার এবারের স্লোগান ‘স্বচ্ছ নেতৃত্ব, উন্নয়নের গতি, আলোকিত ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতি’।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির দুঃসময়ে ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকায় মিথ্যা মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছি। দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা, জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী সবসময় দলীয় ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।”
তার অঙ্গীকার, “মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংমুক্ত একটি আদর্শ ও নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ে তোলা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে কাজ করব।”
আবু জাফর মোঃ সালেহ অলি পাটওয়ারী বলেন, “অতীতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ইউনিয়নবাসীর সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। চেয়ারম্যান থাকাকালীন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মানুষের সঙ্গে আমার সেই আত্মিক সম্পর্ক আজও অটুট রয়েছে।”
তিনি বলেন, “গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের ব্যাপক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নানা অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনিক হয়রানির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হয়েছি। জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত আমাকে আবারও প্রার্থী হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। জনগণই আমার রাজনীতির মূল উৎস। আমি জনগণের পাশে আছি, থাকব ইনশাআল্লাহ।”
মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ খোকন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মৈশাদী ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে রাজনীতি করে আসছি। দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি এবং কঠিন সময়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে ইউনিয়ন বিএনপিকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি, মৈশাদীতে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতিতে ভূমিকা রেখেছি। বর্তমানে দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি।”
তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের ব্যাপক সমর্থন ও দাবির প্রেক্ষিতে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচিত হলে একটি আধুনিক, সুশাসনভিত্তিক, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত ও জনবান্ধব মৈশাদী ইউনিয়ন গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জনগণের ভালোবাসাই আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দেব। একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি। এ কারণে একাধিকবার হামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছি, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সময় তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে থেকেছি।”
স্বপন আরও বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার ইউনিয়নে সমন্বয়কের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে দলের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করেছি। আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও নিষ্ঠা বিবেচনা করে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবেন বলে আশাবাদী।”
উল্লেখ্য, মাহবুবুর রহমান স্বপন বর্তমানে মৈশাদী তালতলা বাজার বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাবেক মৈশাদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, যুবদলের সভাপতি এবং দীর্ঘ ১৫ বছর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রকাশিত : রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

















