

সম্পাদকীয়
প্রিয় সময়ে ‘আমতলীতে অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করতেই পারি। এএ অভিযান পরিচালনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন রয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, আমতলী উপজেলায় বিপুল পরিমাণ সরকারি সার অবৈধভাবে মজুতের ঘটনাটি আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার ওপর এক গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও কৃষিবিভাগের যৌথ অভিযানে ৬২ বস্তা সরকারি সার জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০,২৫০ টাকা। এ ঘটনা কেবল একটি ছোটখাটো অপরাধ নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত; যা’ আমাদের কৃষিখাতকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে সার কৃষকের জন্যে জীবনধারণের মতোই অপরিহার্য। সরকার কৃষকদের স্বার্থে ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ করে। যাতে তারা স্বল্পমূল্যে ফসল ফলাতে পারে। কিন্তু যখন কিছু অসাধু চক্র এ ভর্তুকিযুক্ত সার অবৈধভাবে মজুদ করে, তখন এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। এ সার কালোবাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়-যার ফলে প্রকৃত কৃষকরা সময়মতো এবং ন্যায্যমূল্যে সার পায় না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদন খরচের ওপর। সার কিনতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হলে কৃষকের মুনাফা কমে যায় এবং অনেক সময় তারা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হয়। এ ঘটনায় একজন ইউপি সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ খুবই হতাশাজনক। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু যখন তারাই এএ অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হন; তখন তা’ সামাজিক অবক্ষয়কে তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, দুর্নীতির শিকড় সমাজের গভীরে প্রবেশ করেছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মজনু চৌকিদার এবং তার স্ত্রীর পালিয়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে, তারা নিজেদের অপরাধ সম্পর্কে সচেতন।

এ ধরনের অপরাধ দমনের জন্যে কেবল পুলিশি অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা। সার বিতরণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা এবং দ্রæত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে, কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে-যাতে তারা কোনো অনিয়ম দেখলে প্রশাসনকে জানাতে পারে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবেÑএ ¯েøাগান কেবল কথার কথা নয়। আমাদের কৃষকদের অধিকার এবং প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। আমতলীর এ ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। এ অপরাধের মূল হোতাদের দ্রæত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটি শুধু একটি অপরাধের বিচার নয়; বরং এটি আমাদের কৃষি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে পারি যে, সরকার ও প্রশাসন কৃষকের পাশে আছে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। আগামীতে এমনটাই হবে আমরা প্রত্যাশা করি।
শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫






