

সম্পাদকীয়
প্রিয় সময়ে ‘হোসেনপুরে ইউএনওর সেলাই মেশিন ও শুকনো খাবার বিতরণ’ শিরোনামে সংবাদটি আমাদের নজরে এসেছে। সংবাদটি পড়ে আমরা অভিভূত হয়েছি। দারিদ্র্য বিমোচনের পথে বাংলাদেশের অগ্রগতি হলেও এখনো সমাজের একটি বড় অংশ রয়েছেন, যাঁরা চরম প্রতিক‚লতার মধ্যদিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে, স্থানীয় প্রশাসনের ভ‚মিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা’র উদ্যোগে হতদরিদ্র ও এতিম শিশুদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ এবং অসহায় দরিদ্র পরিবারের নারীদের সেলাই মেশিন প্রদানের যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো, তা’ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।
এ ধরনের উদ্যোগ কেবল তাৎক্ষণিক সাহায্য নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে সমাজের দুর্বল অংশকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী পদক্ষেপ। দরিদ্র শিশুদের শুকনো খাবার প্রদান তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের প্রতি তাদের অধিকারের বার্তা বহন করে। অন্যদিকে, চারজন প্রান্তিক নারীকে সেলাই মেশিন বিতরণ করা কেবল একটি বস্তুগত সহায়তা নয়; এটি তাদের ক্ষমতায়নের প্রতীক। ইউএনও যথার্থই বলেছেন, নারীরা ঘরে বসে আয়ের মাধ্যমে পরিবারে সহযোগিতা করতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হবে। এ সেলাই মেশিনগুলো তাদের জন্যে উপার্জনের পথ খুলে দেবে, যা’ তাদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পুরো পরিবার এবং শেষ পর্যন্ত সমাজ উপকৃত হয়। সেলাই মেশিন পেয়ে নারীদের ‘আনন্দে আত্মহারা’ হয়ে ইউএনওকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রমাণ করে এ সহায়তার গুরুত্ব ও প্রয়োজন কতোখানি।
তবে, এ উদ্যোগকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এটিকে একটি মডেল হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। প্রশাসনকে খেয়াল রাখতে হবে, বিতরণ করা সেলাই মেশিনগুলো যেন কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজনে তাদের জন্যে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ ও উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে সামান্য সহযোগিতা প্রদান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে, উপজেলার উত্তর কুরিমারা গ্রামে যুব উন্নয়ন কার্যালয় কর্তৃক যে ৭ দিনব্যাপী বøক বাটিকের ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ চলছে, তা’ এ ধরনের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রচেষ্টারই অংশ। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত এমন কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগকে আরো সম্প্রসারিত করা; যা’ নারী ও যুবসমাজকে দক্ষতাভিত্তিক আয়ের সুযোগ করে দেবে।
হোসেনপুরের ইউএনও কাজী নাহিদ ইভার এ মানবিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রমাণ করে, প্রশাসন কেবল আইন বা নীতি কার্যকর করার একটি সংস্থা নয়; এটি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের জীবনমান উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মও বটে। আমরা আশা করবো, দেশের অন্যান্য উপজেলার প্রশাসনও এ ধরনের সৃজনশীল ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে অগ্রণী ভ‚মিকাপালন করবে। দারিদ্র্েযর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ ধরনের ছোট; অথচ সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫







