

সম্পাদকীয়
প্রিয় সময়ে ‘প্রানবৈচিত্র্য সুরক্ষায় অচাষকৃত শাকের রান্না প্রতিযোগিতা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের আশার আলো দেখায়; যা’ প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের উৎসাহিত করে। আমরা জানি, প্রকৃতির অফুরন্ত সম্পদের মধ্যে অচাষকৃত উদ্ভিদ একটি অমূল্য উপহার। এ উদ্ভিদগুলো শুধু পুষ্টিগুণে ভরপুর নয়; বরং আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। তবে, আধুনিক কৃষি, বাজারনির্ভর খাদ্যাভ্যাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এ প্রাণবৈচিত্র্য আজ বিলুপ্তির পথে। এমন প্রেক্ষাপটে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘সিক্সটিন ডেজ অব গেøাবাল অ্যাকশন অন এগ্রোইকোলজি ২০২৫’ ও ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অচাষকৃত শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।

প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, এ অনুষ্ঠানে ৯০ প্রজাতির অচাষকৃত উদ্ভিদ; যেমন-থানকুনি, হেলেঞ্চা, শাপলা, গাদোমনি, তুলশি, অশ্বগন্ধা, ধুতরা প্রভৃতি প্রদর্শিত হয়। এ উদ্ভিদগুলোর পুষ্টিগুণ, ঔষধি মূল্য, প্রাপ্তিস্থান, এবং ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন সচেতনতা তৈরি করেছে। স্থানীয় নারীদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং তাদের খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান এ মেলার মাধ্যমে নতুনভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রির বক্তব্যে উঠে এসেছে, একসময় উপক‚লীয় অঞ্চল ছিলো প্রকৃতির সমাহার। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে এ সম্পদ আজ হুমকির মুখে।
এ মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা শুধু অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব তুলে ধরেনি; বরং স্থানীয় খাদ্য সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়িয়েছে। রান্না প্রতিযোগিতায় নারীরা ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির মাধ্যমে দেখিয়েছেন কীভাবে এ উদ্ভিদগুলো আমাদের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যায়। এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির এ সম্পদ রক্ষা করা শুধু পরিবেশের জন্যেই নয়; আমাদের স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির জন্যেও অপরিহার্য।
আমাদের সমাজে এখনো অনেকে অচাষকৃত উদ্ভিদকে ‘আগাছা’ হিসেবে উপেক্ষা করে। কিন্তু এ মেলা প্রমাণ করেছে যে, এ উদ্ভিদগুলো আমাদের খাদ্য, ঔষধ, এবং পরিবেশের জন্যে কতোটা মূল্যবান। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, এবং সুশীল সমাজের উচিত এ ধরনের উদ্যোগকে আরো উৎসাহিত করা এবং অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্থানীয় জ্ঞান ও ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করতে পারি এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। এ ধরনের মেলা ও প্রতিযোগিতা আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয়ে জীবনযাপনই হলো টেকসই উন্নয়নের পথ। আসুন, আমরা সকলে মিলে অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব উপলব্ধি করি এবং প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখি। তাহলেই আমরা প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পারবো।
শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫








