

পরিবার সমাজের প্রাণ, সেই প্রথম ধারা,
ভালোবাসায় গড়ে ওঠে জীবনের ভিত্তিভারা।
রক্তের বাঁধন নয় শুধু, মনেও চাই মেল,
নয়তো সম্পর্ক থাকে কেবল নামে খেল।

চাচা আসে উৎসবে, দেয় আশীর্বাদ কপালে,
কিন্তু দুঃখে পাশে নাই Ñ এ কেমন আত্মীয় ভালো?
নামমাত্র স্নেহ আজ, সময়ের অদ্ভুত খেলা,
যেন কাঁচের মতো ভাঙে সম্পর্কের মেলা।
বাইবেল বলে স্পষ্ট কথা Ñ যতœ করো সবার,
নিজ গৃহের দায়িত্বহীন, বিশ্বাসে পরাজয় তার।
শহুরে ব্যস্ত জীবন যেন লোহায় গড়া দেয়াল,
আত্মীয়তা হারায় মাঝে যান্ত্রিক কালচক্রজাল।
ফোনে হাসি, মেসেজে কথা, কিন্তু হৃদয় দূর,
কাজে না দেখা গেলে বন্ধন হয় ¤øান ও পুর।
অর্থের পিছু ছুটে মানুষ ভুলে গেছে দান,
সহানুভ‚তির মূল্য আজ টাকায় মাপা প্রাণ।
বিদেশে থাকা ভাই ভাবেÑ”সময় পেলে যাব”,
কিন্তু সময় ফুরায়, দেখা হয় না একবারও।
বাইবেল ডাকেÑ”ক্ষমা কর, সহ্য কর, প্রেমে বাঁচ”,
এই তো সম্পর্কের মূল, যেখানে নেই বিরোধের চাঁচ।
পশ্চিমের প্রভাবে বেড়েছে স্বার্থপর মন,
নিজের সুখেই ব্যস্ত মানুষ, ভেঙে যায় বন্ধন।
যে ঘরে মিল নেই, সেখানে আলো ফিকে হয়,
প্রেমহীন জীবনে শান্তি কোনোদিন রয়?
বিভেদের দেয়ালে লেখা একাকীতার নাম,
অভিমান জমে হয়ে ওঠে হৃদয়ের জ্বালাময় ঘাম।
এক ভাই অন্য ভাইকে ভুলে যায় সম্পত্তির দ্ব›েদ্ব,
কোথায় গেল সেই শৈশব, মাঠের খেলায় বন্ধে?
বাইবেল বলেÑ”একই মনে থাকো, বিভেদ করো না”,
একতার পথে হাঁটলে, প্রভু দেবেন করুণা।
বয়স্ক জনে কেউ নেই পাশে, ফোনই সান্ত¡না,
কিন্তু হৃদয় চায় আলিঙ্গন, ভালোবাসার বাণা।
শিশুরাও শেখে না আজ আত্মীয়তার মান,
টিউশন, স্ক্রিন, একাকী তারা, কেমন বিষণœ প্রাণ।
বাবা-মা ব্যস্ত কাজে, সময় পায় না দল,
ভালোবাসা শেখায় কে আজ? কাকে বলে “আত্মীয় বল”?
বাইবেল বলেÑ“সন্তানকে শেখাও পথের পাঠ”,
যাতে সে বড় হয়ে রাখে মমতার জাঠ।
যেখানে একতা, সেখানেই ঈশ্বরের বসতি,
যেখানে বিরোধ, সেখানেই জীবনের ক্ষতি।
সহানুভ‚তি ফিরিয়ে আনো, ভাঙো অভিমানের দেয়াল,
কাঁধে কাঁধে দাও হাত, করো হৃদয়ের খেয়াল।
যোগাযোগ বাড়াওÑচিঠি দাও, দেখা করো প্রিয়,
একটি হাসিও পারে মুছে দিতে বহু হিয়।
উৎসবে নয়, দুঃখে যদি পাশে থাকো তুমি,
তবে সত্যিকারের আত্মীয় তুমি Ñ ঈশ্বর জানেন যিনি।
প্রভু শেখান করুণা, ক্ষমা আর দান,
এই গুণেই গড়ে ওঠে আত্মীয়তার প্রাণ।
“দুইজন একজনের চেয়ে ভালো”,Ñবলে সভাসদ বই,
তিন সুতার দড়ি ছিন্ন হয় না, দৃঢ়তর তাই।
ভালোবাসা মানে নয় শুধু কথার ফুলঝুরি,
কাজে তা ফুটলে তবেই সম্পর্ক পায় সুরভি।
বাবা-মায়ের সেবা করো, রাখো সম্মান,
বাইবেল দেয় প্রতিশ্রæতিÑদীর্ঘ হবে প্রাণ।
রাহুল, ফাতেমা, কিংবা সেই নিঃসঙ্গ বুড়ি,
সবাই চায় একটাইÑভালোবাসার সুরী।
শরৎচন্দ্র লিখেছেন যে, “মানব হৃদয়ই ধন”,
রবীন্দ্রনাথও বলেছেন, “ভালোবাসাই জীবন”।
তাই আজকের আহŸানÑনাম নয়, কর্ম হোক,
প্রেমের আলোয় আত্মীয়তার বৃক্ষ আবার শোক।
যেখানে আছে দয়া, সেখানেই খ্রিস্টের মুখ,
যেখানে অহংকার, সেখানেই সম্পর্ক শুক।
ক্ষমা কর, আগলে নাও, অভিমান করো দূর,
প্রেমের চেয়ে বড় নয় কোনো ধন-গরিমা পুর।
বাইবেল বলেÑ”দয়ালু হও, করুণাময় প্রাণ”,
যেমন খ্রিস্ট ক্ষমা করিলেন, তেমনি করো দান।
যৌথ পরিবারে ফেরাও সেই হাসির ধ্বনি,
যেখানে একসাথে খাওয়া মানে আনন্দভ‚মি।
সন্তান দেখুক ভালোবাসা, শিখুক মমতার ছন্দ,
তবেই সমাজ গড়বে আবার মানবতার বন্ধ।
প্রতিটি ঘরে প্রার্থনা হোক একতার জন্যে,
“প্রভু, ফিরিয়ে আনো হৃদয়, ভাঙা সম্পর্ক যেন জ্বলে।”
ভালোবাসা নিঃস্বার্থ হোক, করুণায় ভরা,
যে ঘরে দয়া আছে, সে ঘরই স্বর্গ সরা।
নামমাত্র নয়, প্রাণের বন্ধন হোক দৃঢ়,
যেখানে ঈশ্বর হাসেন, সম্পর্ক হয় মধুর।
একবার যদি মন থেকে ডাকা হয় “ভাই”,
তবে সে ডাক প্রতিধ্বনিত হোক আকাশ জুড়াই।
যে ঘরে সেবা আছে, সেখানে প্রভুর আলো,
যে ঘরে অভিমান, সেখানেই আঁধার কালো।
ভালোবাসা ফিরিয়ে আনো, ক্ষমা করো মন থেকে,
ঈশ্বরের মতো দয়া করো, যতই কষ্ট থাকে।
নাম নয়, কাজেই হোক আত্মীয়তার চিহ্ন,
তবেই মানবতার বৃক্ষে ফুটবে ফুল সুগন্ধিন।
ভালোবাসা হোক প্রার্থনা, সম্পর্ক হোক গান,
একতার পথে হাঁটুক প্রতিটি মানব প্রাণ।
যখন একসাথে চলি, তখনই শক্তি পাই,
বাইবেল বলেÑ”তোমরা এক মন হও”, তাই!
ভাঙা ঘর জোড়ো আজ, ফেরাও মিষ্টি হাসি,
ঈশ্বর দেখেন হৃদয়Ñভালোবাসা তাঁর ভাষি।
যে যত দেয়, সে তত পায়, এই জীবনের নিয়ম,
করুণা ছড়াও, তবেই মিলবে শান্তির সুমন।
শিশুরা শিখুক হৃদয়ের দান, নয় কেবল নাম,
তবেই গড়বে ভবিষ্যৎ, উজ্জ্বল আর অবিরাম।
“আমি ও আমার গৃহে প্রভুকে সেবা করিব”Ñ
এই প্রতিজ্ঞায় বন্ধন হবে অটল, অবিচ্ছেদ্য।
আত্মীয়তা হোক প্রার্থনা, মমতার অনল,
ভালোবাসায় ভরুক বিশ্বÑমানবতার দল।
নাম নয়, কর্মে হোক আত্মীয়তার জয়,
প্রেমে বাঁধা এই সমাজে প্রভু থাকুন সদায়।
মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫















