চাঁদপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজি : অপশক্তির দাপট রুখবে কে?

সম্পাদকীয়
সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিকদের বলা হয় গণমানুষের কণ্ঠস্বর। কিন্তু যখন একজন সাংবাদিক নিজেই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন, তখন সমাজের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে গভীর প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সম্প্রতি চাঁদপুরের রামপুর বাজারে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি সেই তিক্ত সত্যকেই আবারো আমাদের সামনে উন্মোচিত করলো।

দৈনিক ‘বাংলাদেশের আলো’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চাঁদপুরের রামপুর বাজারে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তিনি বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, আঘাতের কারণে তাঁর ঘাড়ের রগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর শারীরিক আক্রমণ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার ওপরও চরম আঘাত।

উদ্বেগের বিষয় হলো, রামপুর বাজারে চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য নতুন কিছু নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত সন্ত্রাসী চক্র এলাকায় চাঁদাবাজি ও লুটপাট চালিয়ে আসছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। এর আগেও বাজারে লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও সন্ত্রাসী চক্রটির দৌরাত্ম্য থামানো যায়নি।

কোনো সমাজে যখন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখাতে পারে এবং হামলা করার সাহস পায়, তখন বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি অপরাধীদের কোনো ভয় বা শ্রদ্ধা নেই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা বললেও, বাস্তবে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। কেবল ‘দুঃখ প্রকাশ’ বা ‘সতর্কতা’ দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করা সম্ভব নয়; এর জন্যে প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ।

আমরা মনে করি, রামপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বিধান এবং সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। ঘটনার সাথে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখা এবং জনগণের জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর ও তৎপর হতে হবে। অপশক্তির কাছে সমাজ ও সাংবাদিকতা জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না- প্রশাসন অবিলম্বে তা নিশ্চিত করবে, এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

প্রকাশিত :  ‍বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy