মেহেরপুরে মাদকসহ গ্রেফতার ও একটি জরুরি সামাজিক বার্তা

সম্পাদকীয়
মেহেরপুরের শ্যামপুরে ২৮ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করার খবরটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলাজনিত ঘটনা নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক ও জাতীয় সংকটের প্রতি প্রতিধ্বনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও মেহেরপুরসহ সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোতে মাদকের ছোবল কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। র‌্যাবের এই সময়োপযোগী অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, কিন্তু একইসঙ্গে তা আমাদের সমাজের এমন এক ভয়াবহ ক্ষতকে উন্মোচিত করে দেয়, যা বিশেষ করে তরুণ সমাজকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সংবাদে উল্লিখিত আসামী দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলো। এর ফলে স্থানীয় তরুণ সমাজ মারাত্মকভাবে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছিলো। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদকের বিস্তার এখন শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও থাবা বসিয়েছে। উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণরা অতি সহজেই এই মরণনেশার কবলে পড়ে যাচ্ছে। যে বয়সে পড়াশোনা, খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ কিংবা দেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর থাকার কথাÑসেই বয়সে একদল তরুণ আজ মাদকের নীল দংশনে নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে।

উঠতি বয়সী তরুণ সমাজ কোনো দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ ও চালিকাশক্তি। অথচ মাদকের সহজলভ্যতা এই তরুণদের পথভ্রষ্ট করার প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে দু-চারজনকে গ্রেফতার করে কিংবা কয়েকটি মামলা দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এতে হয়তো সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু মাদকের মূল সরবরাহ ব্যবস্থা বা গডফাদাররা আড়ালেই রয়ে যায়। ফলে একটি অপরাধ চক্রের সদস্য গ্রেফতার হলেও নতুন কোনো হাত তৈরি হতে বেশি সময় লাগে না।

মাদকের এই অভিশাপ থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, মাদকের উৎস ও সীমান্তপথগুলোতে নজরদারি আরো কঠোর করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এক হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো উঠতি বয়সী তরুণ অলসতা, বেকারত্ব বা অসৎ সঙ্গের কারণে মাদকের জগতে পা না বাড়ায়। খেলার মাঠ নিশ্চিত করা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের যুক্ত করাও অত্যন্ত প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অভিযান অব্যাহত রাখুকÑতা আমরা চাই। তবে তার পাশাপাশি মাদকের ভয়ংকর নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলতে হবে। আজ যদি আমরা আমাদের উঠতি বয়সী তরুণদের মাদকমুক্ত সুস্থ পরিবেশ না দিতে পারি, তবে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ এক গভীর সংকটে পড়বে। শ্যামপুরের এই ঘটনা আমাদের আরও একবার সতর্ক করে গেলো; এখনই ব্যবস্থা না নিলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

 

 

প্রকাশিত :  ‍শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy