চাঁদপুরে চিকিৎসা সেবার নতুন দিগন্ত: বাস্তবায়ন চাই দ্রুত ও মানসম্মত

সম্পাদকীয়
চাঁদপুরের ৩০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিলো একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ রোগীর ভিড়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছিলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। মেঝেও বারান্দায় গাদাগাদি করে রোগীদের চিকিৎসা নেয়ার দৃশ্য ছিলো এ জেলার নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবে আশার কথা হলো, এ অবহেলার অবসানে অবশেষে খুললো নতুন সম্ভাবনার দ্বার। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং সংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জমিতে ১৫ তলা নতুন ভবন নির্মাণের প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের ডিও লেটারের মাত্র সাতদিনের মাথায় গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনামূলক পত্র জারি করা হলো। জনপ্রতিনিধির এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সরকারি সিদ্ধান্তের দ্রুত পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। একটি অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের এমন উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত পরিবর্তনই আনে না, বরং কোটি মানুষের বেঁচে থাকার আস্থা ফিরিয়ে আনে।

১৫ তলার এ নতুন ভবন নির্মিত হলে চাঁদপুরবাসীকে আর জরুরি ও জটিল চিকিৎসার জন্যে ঢাকা কিংবা কুমিল্লায় ছুটতে হবে না। আইসিইউ, সিসিইউ, উন্নত সার্জারি ও কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো সেবাগুলো হাতের নাগালেই পাওয়া সম্ভব হবে। তবে অতীতে বহু প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর মূল কাজ শুরু ও শেষ হতে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। আমরা আশা করবো, এ মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেরকম কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হবে না।

প্রশাসনিক পর্যায় থেকে নির্দেশনার পর এখন মূল কাজ হলো নকশা প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ ও দ্রুত সময়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিশ্চিত করা। হাসপাতাল ভবন নির্মাণের সাথে সাথে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও দক্ষ নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়াও এখন থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত। কারণ শুধু ভবন দাঁড়িয়ে গেলেই ভালো চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায় না, তার জন্যে প্রয়োজন উন্নত সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল।

গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে চাঁদপুরের স্বাস্থ্যসেবার এ নতুন অভিযাত্রা শুরু হলো। এখন চাঁদপুরবাসীর একটাই প্রত্যাশাÑ অতি দ্রুত যেন এ ১৫ তলা ভবনের কাজ শুরু হয় এবং তা শতভাগ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়ে জনগণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, আর চাঁদপুরের ক্ষেত্রে এ অধিকার বাস্তবায়নে কোনো শিথিলতা কাম্য নয়।

প্রকাশিত :  ‍সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy