চাঁদপুরে রূপা আমনে চাদরে স্বপ্নের ফসল—কৃষকের মাঠজুড়ে প্রাণের স্পন্দন

সজীব খান, চাঁদপুর :
চাঁদপুরে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এখন রূপা আমন ধানের সবুজ সমারোহ। চোখজুড়ানো সবুজে ছেয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। কোথাও কোমরসমান ধানের গাছ, আবার কোথাও বাতাসে দুলছে কচি ধানের শীষ। সবুজের এই অপরূপ দৃশ্য যেন কৃষকের স্বপ্ন ও সম্ভাবনারই প্রতিচ্ছবি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে রূপা আমনে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার কৃষকেরা।

চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রূপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমিতে ধানের গাছ সবুজ ও সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছে। কৃষকেরা নিয়মিত জমিতে পানি, সার ও আগাছা নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করছেন। কোথাও কোথাও ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। ফলে কৃষকের চোখে এখন নতুন আশার ঝিলিক।

কৃষকেরা জানান, আমন ধান তাদের অন্যতম প্রধান মৌসুমি ফসল। ধানের ফলন ভালো হলে কৃষকের পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে ধান বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকলেও ভালো ফলনের প্রত্যাশায় নিয়মিতভাবে জমির পরিচর্যা করছেন তারা।

তবে রূপা আমন চাষিদের একটি অংশের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে ধানখেতে দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোরসালের দেখা তেমন পাইনি অনেক কৃষক এমনটাই দাবি, ধান রোপণের পর থেকে ফসলের বর্তমান অবস্থা দেখতে বা কৃষকদের খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেক ক্ষেত্রেই মাঠে দেখা যায়নি।

কৃষকদের অভিযোগ, ধানের জমিতে রোগবালাই দেখা দিলে, সার প্রয়োগের সঠিক সময় বা মাত্রা নির্ধারণ করতে এবং অন্যান্য কৃষি সমস্যায় অনেক সময় তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় কিছু কৃষককে স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও নিজেদের জ্ঞান দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হচ্ছে।

কৃষকেরা বলেন, ধান এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এ সময়ে জমিতে রোগবালাই বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সময়মতো কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ পাওয়া গেলে অনেক ক্ষতি থেকে ফসল রক্ষা করা সম্ভব। তাই ধান কাটা পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রবীণ কৃষক মোহাম্মদ হোসেন গাজী।

এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে রূপা আমনে আশানুরূপ ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষকেরাও সঠিক সময়ে কৃষি পরামর্শ ও সরকারি সহায়তা পেলে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপন রায় বলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলায় চলতি বছর রূপা আমনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা তাদের স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রূপা আমন ধান চাষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধানের উৎপাদন ভালো রাখতে কৃষকদের নিয়মিত জমির পরিচর্যা, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কৃষকদের যেকোনো কৃষি সমস্যায় সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সবুজে ঘেরা ধানখেত এখন কৃষকের নতুন স্বপ্নের প্রতীক। মাঠজুড়ে দুলতে থাকা ধানের গাছ দেখে কৃষকের মনে যেমন আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনি শেষ পর্যন্ত প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে সেই স্বপ্ন সোনালি ধানে রূপ নেবে—এমন প্রত্যাশাই এখন চাঁদপুরের কৃষকদের।

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy