চাঁদপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজারে নৈরাজ্য রোধে কঠোর নজরদারি জরুরি

সজীব খান :

চাঁদপুরে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শহরতলি, মফস্বল এলাকার হাটবাজার ও গ্রামের বিভিন্ন দোকানে এলপিজি গ্যাসের বিক্রয়মূল্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে জেলা প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় বাজারগুলোতে কোথাও কোথাও ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করা হলে তা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে, কিছু এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি কিংবা অবৈধভাবে মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। হোটেল, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এলপিজি গ্যাসের চাহিদা থাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ পরিবার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর।

এ পরিস্থিতিতে চাঁদপুর শহর, শহরতলি, উপজেলা সদর, ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজার এবং প্রত্যন্ত গ্রামের গ্যাস বিক্রির দোকানগুলোতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। বিক্রয়মূল্যের তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ যাচাই, অবৈধ মজুত শনাক্তকরণ এবং নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে এলপিজি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সচেতন মহলের দাবি, এলপিজি গ্যাস নিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সুযোগ নিতে না পারেন, সে জন্য চাঁদপুরের সর্বত্র কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে।

প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy