চাঁদপুরে নেশার টাকা না পেয়ে কুরআন অবমাননা: বখাটে ছেলেকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিলো এলাকাবাসী

গাজী মোহাম্মদ মহসিন :

চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের এনায়েতনগরে নেশার টাকা না পেয়ে গর্ভধারিণী মাকে নাজেহাল এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন অবমাননার অভিযোগে সুজন মিঞা (৪০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

​ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এনায়েতনগরের মৃত হারুন মিয়ার ছোট ছেলে সুজন মিঞা নেশার টাকার জন্য প্রায়ই তার মা শাহানারা বেগমকে চাপ প্রয়োগ করতেন। ঘটনার দিন সকালে নেশার টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের ভেতর থাকা পবিত্র আল-কুরআন শরীফ অবমাননা করেন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকেন।
​

পবিত্র কুরআন অবমাননার বিষয়টি বুঝতে পেরে পার্শ্ববর্তী বাড়ির ইমন মিঞার চিৎকারে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা নেশাগ্রস্ত সুজন মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন মিঞা সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বখাটে সুজন মিঞাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
​

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বখাটে সুজন মিয়া প্রায় সময়ই মাদকের টাকার জন্য তার মাকে অপমান-অপদস্থ ও মারধর করতেন। এমনকি তিনি বিভিন্ন চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গেও জড়িত। পবিত্র কুরআন অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এলাকাবাসী তার কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুফতি মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ দেওয়ান বলেন, “ইসলামী শরীআতের বিধানে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবমাননার অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আমরা চাই, প্রচলিত আইনের পাশাপাশি শরীআতের বিধান অনুযায়ী তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”

​ঘটনার বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই মনির হোসেন মিঞার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বখাটে সুজন মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ডোপ টেষ্ট করে পজিটিভ থাকায় মাদকের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy