

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভাটেরগাঁও এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কাজী মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে হৃদয় কাজী (৩৭)কে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইউনিয়নের ভাটেরগাঁও কাজীবাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানারে এএসআই রাসেল।
চাঁদপুর মডেল থানার এফআইআর নং-৫৮, তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, জিআর নং-১০৭৭, তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৮, ৯, ১০ ও ১২ ধারায় দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কাজী মেহেদী হাসান হৃদয়ের পিতা আলহাজ কাজী শফিকুর রহমান এবং মাতা নাজমা রহমান। তাঁর বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের করদী পাঁচগাঁও এলাকার কাজীবাড়িতে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, কাজী মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে হৃদয় কাজী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। উল্লিখিত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকালে এজাহারবহির্ভূত আসামি হিসেবে কাজী মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে হৃদয় কাজীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩৯ বছর বয়সী হৃদয় কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইকদী-ভাটেরগাঁও মাদক নির্মূল কমিটির উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হৃদয় কাজীকে আটক করা হয়।
এ সময় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিয়াজী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সফিক কবিরাজসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে চাঁদপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, হৃদয় কাজী এলাকায় ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সোর্স পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার এবং তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের দাবি, তিনি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও জড়িত। এলাকাবাসীর মতে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতা পেলে এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। এদিকে, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হয়রানি, হামলা কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে না হয়, সে জন্য চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সহযোগিতা চেয়েছে পাইকদী-ভাটেরগাঁও মাদক নির্মূল কমিটি।
প্রকাশিত: শনি বার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.














