৪৮ দিনের শিক্ষার্থী-কৃষক উদ্যোগে পতিত জমিতে সবুজ স্বপ্ন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
বিদ্যালয়ের পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষি শিক্ষা, ভালো অভ্যাস ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রাম এডিপি। GEDSI Friendly Green School কার্যক্রমের আওতায় কুড়িগ্রাম গার্লস হাই স্কুলে বাস্তবভিত্তিক কৃষিশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে শুরু করা হয় ‘৪৮ দিনের শিক্ষার্থী-কৃষক’ (48 Days of Student-Farmer) উদ্যোগ। ৪৮ দিনের এই কার্যক্রমের অগ্রগতি শেয়ারিং ও উদযাপন উপলক্ষে বুধবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, কুড়িগ্রাম গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু হোসেন সরকার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কুড়িগ্রাম এডিপি ম্যানেজার নিতা ফ্লোরা দাস, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সঞ্জীব গাইন, ওয়ার্ল্ড ভিশন এডিপির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, শ্রেণিকক্ষের প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ, পুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পতিত জমিকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শ্রমের মর্যাদা এবং কৃষির প্রতি আগ্রহ তৈরি করবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রব শিক্ষার্থীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

কুড়িগ্রাম সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কৃষি শেখার সুযোগ তৈরি করে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি পরামর্শ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিকাজ শেখার সুযোগ তাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। বীজ বপন, পরিচর্যা, গাছের যত্ন নেওয়া এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে তারা কৃষির বাস্তব জ্ঞান অর্জন করছে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও ভালো অভ্যাস গড়ে উঠছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ শুধু কৃষি শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা, পুষ্টিকর খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার ও সমাজে কৃষি ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা তারা নিজেদের পরিবারেও কাজে লাগাতে চায়।

আয়োজকদের মতে, ‘৪৮ দিনের শিক্ষার্থী-কৃষক’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের কৃষির সঙ্গে পরিচিত করা এবং বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত জমিকে শিক্ষামূলক ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শুধু কৃষি সম্পর্কে জ্ঞানই দেবে না, বরং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা, পুষ্টি সচেতনতা এবং স্বনির্ভরতার মানসিকতাও গড়ে তুলবে।

একটি পতিত জমিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ৪৮ দিনের এই উদ্যোগ এখন শিক্ষার্থীদের কাছে পরিণত হয়েছে বাস্তব কৃষিশিক্ষার এক জীবন্ত পাঠশালায়। সবুজে ঘেরা বিদ্যালয়, কৃষির প্রতি আগ্রহী শিক্ষার্থী এবং পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা—‘৪৮ দিনের শিক্ষার্থী-কৃষক’ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

প্রকাশিত :  ‍বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy