

রফিকুল ইসলাম , হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বাসুরচর এলাকার নরসুন্দা নদীর কচুরীপানার নীচ থেকে নিখোজ হওয়ার ৬ মাস পর এক যুবকের লাশ পঁচে যাওয়া হাড়গোড় উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। ১৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. (শুক্রবার) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামীর তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ ডিবি পুলিশ আসামীকে সাথে নিয়ে হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের সহযোগীতায় এ উদ্ধার অভিযান চালায়।

জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিন কুড়িমারা গ্রামের ফজলু মিয়ার পুত্র সালমান (১৯) কে উত্তর কুড়িমারা গ্রামের মেস্তরী বাড়ির সোহেলের পুত্র শান্ত (১৮) গত ১৮ই মে সন্ধায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সে নিখোজ হয়ে যায়। নিখোজ সালমানের পিতা এ বিষয়ে হোসেনপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
অপরদিকে সালমানের সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি উপজেলার পুমদী গ্রামের বাসিন্দা হোসেনপুর বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী জাকারিয়ার নিকট থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইলটি সিমকার্ডসহ হোসেনপুর থানায় জমা দিয়ে ঘটনাটির তদন্ত চেয়ে আবেদনের মাধ্যমে থানার ওসি রাশেদুল ইসলামকে বারবার অনুরোধ করে কোন পুলিশি তৎপরতা না থাকায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মবিন, যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসিম সবুজ এবং শাহেদল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন ওসি রাশেদুলকে ঘটনাটির তদন্ত করার জন্য জোর সুপারিশ করেও ব্যর্থ হন।
পরে এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ কোর্টে মামলা দায়ের করলে কোর্ট ওসিকে নিখোজের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। অজ্ঞাত কারনে ওসি রাশেদুল সকল সুপারিশ ও কোর্টের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে দায়িত্বহীনতায় নিরবতা পালন করেন। এ বিষয়ে ওসি রাশেদুল কোন বক্তব্য দেয়নি। অপরদিকে সালমান নিখোজের ৬ মাস পেরিয়ে গেলে পরিবারের কান্না ও আহাজারিতে কুড়িমারা আলোকিত সামাজিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন মাহতাব এলাকার যুব সমাজের সহযোগীতায় ঘটনার তথ্য উদঘাটনের গোবনে তৎপরতা চালায়।
এক পর্যায়ে আসামীগন মাদক সেবন করে মাতাল হওয়ার সুযোগে সালমানকে হত্যা করার ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করে নেয়। আসামীগন মাতাল অবস্থায় বলেন জীবনে কিনা করেছি সালমানকে হত্যা করে নরসুন্দা নদীতে পুতে দিয়েছি। আসামীগন পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুইপুত্র মাফি (১৯), সাকিল (২৫) ও একই এলাকার রফিক (৪৫) এর হত্যাকান্ডের মোবাইল রেকর্ডটি গত ১১ই অক্টোবর রবিবার কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারকে অবগত করলে ডিবি পুলিশকে তদন্ত পুর্বক আসামী গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করেন।
ডিবি পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে আসামী গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আসামীকে সাথে নিয়ে হোসেনপুর থানা ও পাশ্ববর্তী পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের সহযোগীতায় নরসুন্দা নদী থেকে সালমানের পচে যাওয়া হাড়গোড় ও পরনে থাকা টিশার্ট উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আহাদ সহ অনেকেই জানান ৬ মাস পূর্বে নিখোজের বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করলে হয়ত সালমানের লাশটি পাওয়া যেত এবং তার জানাযা ও কবর দেয়া যেত। কিন্তু ওসি রাশেদুলের দায়িত্বহীনতা অবহেলায় নিরবতার কারনে আজ সালমানের হাড়গোড় দেখতে হয়েছে। সালমানের পরিবার ও এলাকাবাসী হত্যাকারীদের উপযুক্ত বিচারের দাবী জানান।
প্রকাশিত: শুক্র বার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.














