

মো. সোহেল কিরণ :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন যেনো শ্যামল বাংলার এক প্রাকৃতিক নিদর্শন। বিস্তির্ণ এলাকা জুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে জলে ভাসে লাল শাপলা আর পদ্ম ফুল। ভোরের স্নিগ্ধ আলো শাপলা ও পদ্ম ফুলের সুন্দর্যকে করে তোলে আরো আকর্ষণীয়। তার সাথে মিষ্টি বাতাসে ভাসে শালিক, বক, ডাহুক সহ বাহারি রংয়ের পাখ-পাখালীর কিচির-মিচির শব্দ।

এ যেন ইট-কাঠের এক আধুনিক যান্ত্রীক জীবণকে ক্ষনিক থামিয়ে দেয়। ভাসিয়ে নেয় সবুজ-শ্যামল বাংলার অপরূপ সুন্দর্যে। প্রকৃতির এই সুন্দর্য উপভোগ করতে ভোর না হতেই দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন অজ¯্র দর্শণার্থীরা। অপার সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সুন্দর্যের নিদর্শন লাল শাপলা ও পদ্ম বিলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেনো সময়ের দাবী ।

সরেজমি ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের উত্তর-পশ্চিম অংশের দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দা গ্রামে পুরনো ও অত্যন্ত জনপ্রিয় লাল শাপলা ও পদ্ম বিল। প্রায় বিশ একর এলাকা জুড়ে তার বিস্তার। এখানে শুকনো মৌসুমে চলে ধান চাষ। আর বর্ষার শুরু থেকে এ বিলে প্রাকৃতিক ভাবেই ফুটে হাজার হ্জাার লাল শাপলা ও পদ্ম ফুল।
বর্ষা যেন এর যৌবনকাল। স্থায়ীত্ব পায় শীত পর্যন্ত। ভোর হতেই এক পাশে রাশি রাশি লাল শাপলা আর অন্য পাশে পদ্ম ফুল ফুটে পর্যটকদের নজর কাড়ে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ফুল গুলো যেনো চুপসে যায়। তাই প্রথম প্রহরেই দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, হালকা বাতাসেই পদ্ম ফুল গুলো হেলেদুলে সুগদ্ধ ছড়ায় চারপাশে। সকালের মিষ্টি রোদ জলে ভেজা শাপলা পাতার উপর ঝিকিমিকি আলো ছড়ায়। তার সাথে নানা পাখ-পাখালীর ডাক সহজেই দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। প্রকৃতির এ সুন্দর্য উপভোগ করতে ঢাকা ও আশেপাশের মানুষেরা দল বেধে এখানে ছুটে আসে। নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ন আর লাল শাপলা ও পদ্ম ফুলের সাথে ছবি তুলে আনন্দ উপভোগ করে। আবার কেউ সখের বশে শাপলা ও পদ্ম ফুল তুলে নেয়।

পর্যটকরা জানান, ঢাকার কাছে এতো সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আসলেই শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ সহ সকলেরই মনকে পুলকিত করে তোলে। ভোরের মিষ্টি আলোতে লাল শাপলা ও পদ্ম গুলো যেনো তাদের সুন্দর্য মেলে ধরে। তার সাথে নানান রংয়ের পাখ-পাখালীর ডাক সব মিলিয়ে এ যেনো রূপকথার কোন গল্প বাস্তবে রূপ নেয়।
তবে, এখানে আসতে গাজীপুর-মদনপুর বাইপাস সড়কের জিন্দা এলাকায় নেমে প্রধান সড়ক থেকে শাখা রাস্তা গুলোতে কোন নির্দেশনা নেই। তাই যারা প্রথম আসেন তারা পথ ভুল করে নানা ভোগান্তির স্বীকার হন।
এছাড়া আশেপাশে খাবারের কোন হোটেল বা রেস্টুরেন্ট না থাকায় দূর-দুরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের খাবারের জন্যও কষ্ট পোহাতে হয়। তাছাড়া এ বিলটি নিয়ে কারো কোন উদ্যোগ না থাকায় বিলের পানিতে অতিরিক্ত আগাছা জন্মে প্রাকৃতিক সুন্দর্য উপভোগেও নানা বেঘাত ঘটায়। তাই অপার সম্ভাবনাময় এ লাল শাপলা ও পদ্ম বিলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পৃষ্টপোষকতার দাবি জানান পর্যটক সহ স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নানা সম্ভাবনার কথা তোলে ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন বলেন, লাল শাপলা ও পদ্ম বিলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এখানে পর্যটকদের সমাগম বাড়বে। ফলে স্থানীয়দের নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে রূপগঞ্জের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে দেশ জুড়ে।








