

মোঃ মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা:
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, এ বছর ৭৭জন বর্তমান সংসদ সদস্যকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এদিক থেকে আমি চতুর্থবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি। আমার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত একজন মানুষও কোন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। কারণ আমি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা পছন্দ করি। শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় আছে, বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা নেই। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সব আগাছা একসঙ্গে তুলে আওয়ামী লীগকে আগাছামুক্ত করা হবে।
সোমবার (১ জানুয়ারী) রাতে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা মাঠে নৌকা প্রথীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচিতি সভায় একথা বলেন তিনি।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান, জেলা ছাত্রলীগের নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, আওয়ামী লীগ নেতা আমির আজম রেজা, হাসানুজ্জামান তারেক, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এস তসলিম, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা খাজে আহমেদ মজুমদার, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট নাজনুন নাহার অনি, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহŸায়ক আবু সুফিয়ান শাহীন, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন, সাবেক প্যানেল মেয়র খলিলুর রহমান।
এদিকে ঈগল প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ড.শামছুল হক ভূঁইয়া মঙ্গলবার (২ জানুয়ারী) উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের সোভান, পশ্চিম সোভান, ধানুয়া, নায়হাট বাজার, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের আইলের রাস্তা, গোয়ালভাওড় বাজার, রামপুর বাজারসহ বিভিন্ন পথসভায় বলেন নৌকার মধ্যে ব্যাঙ,সাপ, উঠে গেছে। এগুলো থেকে নৌকাকে মুক্ত করতে ঈগলের প্রয়োজন। তাই ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে এসেছি। আমি নির্বাচিত হলে নৌকাকে এসব থেকে মুক্ত করবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে আমাদেরকে নৌকার পাশাপাশি, ঈগল দিয়ে আমাদেরকে মাঠে পাঠিয়েছেন।
আগামী ৭ জানুয়ারী নির্বাচনে আপনারা সকলে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ঈগলের জয় নিশ্চিত করে আমাকে আনপাদের সেবা করার সুযোগ দিন। গত ৫ বছরে এই উপজেলা মাদক, প্রতিনিধিলীগ এবং দলের নেতাকর্মীরা নিপিড়ণের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব থেকে মুক্ত হতেই নারী পুরুষ সকলকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে হবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকারের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতা ডা: হারুনুর রশিদ সাগর, উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান, যুগ্মসম্পাদক আলমগীর হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শাহআলম, সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী প্রমুখ।
এদিকে নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী বিএনএম মহাসচিব ড. মোহাম্মদ শাহজাহান প্রশাসনের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারী) ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বসতে না দিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সারিতে বসানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনএম মহাসচিব ও এই আসনের নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী বলেন, আয়োজক তথা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনেক বিনয়ী ও ভদ্র। অনেক সময়ে অনেক কিছু চাইলেও বলতে পারেন না, আজ যেটা হলো। প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত সারিতে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বসার জন্য না বলে আপনাদের পাশে বসতে দিলেন। ইতিমধ্যেই আমরা শুনতে পারছি, এই পক্ষ ওই বাড়িতে লাঠি জড়ো করছে, তো ওই পক্ষ অপর বাড়িতে অস্ত্র জমা করছে। একপক্ষ ঢাকা থেকে সস্ত্রাসী ভাড়া করে আনছে তো অপরপক্ষও তাই করছে।এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলে , আমিসহ আমার দলের ১০২ জন প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
সভায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌলি মন্ডলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বশির আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএস তসলিম আহমেদ।
প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুহম্মদ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির আম প্রতীকের প্রার্থী আবদুল গনি।







