
মনির সাকি :
সারাবিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস কেভিটি-১৯ এর ভয়াবহ আক্রমণে প্রাণহানি ঘটছে প্রতিনিয়ত। যার কারণে প্রায় সব দেশেই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছে মানুষগুলো। আর লক ডাউনে থাকা মানুষদের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার বিভিন্নভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও করছে।


তেমনি বাংলাদেশও লকডাউনে সব বন্ধ হলেও যারা দিন আনে দিন খায় এসব দিন মজুর, নিম্নবিত্তদের পরিবারের পেট কিন্তু লকডাউনে নেই। তাদের পেটে খাবার নেই বাচ্চাদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার ব্যবস্থাও এখনো হয়নি প্রায় সকল জায়গায়। অথচ রিক্সা নিয়ে বাইরে বের হলেই তাদেরকে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে, আইনের লঙ্ঘন করে মাস্ক না পড়ার কারণে কানে ধরে অপমানজনকভাবে ওঠবস করানো হচ্ছে।
গতকাল পুটিয়াখালী বাজারে এমনই এক ঘটনায় লাঠির আঘাত খেয়ে এক বৃদ্ধ রিক্সা চালক বলে উঠলেন “স্যার করোলা ভাইরাসে কন্টিনে থাকলে মোর পোলাপাইন না খাইয়া মরবে”!
কথাগুলো আঞ্চলিক ভাষায় বলায় কারো কাছে হাসির খোরাক হলেও এর ভেতরের রক্তাভ অভিব্যক্তি যে কোন হৃদয়বান ব্যক্তিকে ক্ষতবিক্ষত করবে নিশ্চয়ই। শুধু আইনের প্রয়োগ নয়, জনগণের ব্যথাগুলো অনুধাবন করতে হবে।
নিষ্ঠুরতা দিয়ে আইনের প্রয়োগ করা সহজ কিন্তু কারো পেটের ক্ষুধা নিবারণ করা যায় না। পাশের এক দোকানি বললেন, এ দু’দিন যাবত শুধু শুনতেছি ত্রাণ দেবে-দেবে কিন্তু দিচ্ছেনা, আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষ এখন করোনা ভাইরাসে নয়, ক্ষুধার যন্ত্রণায় মরতে বসেছে।








