ছেলের হাতে মায়ের মৃত্যু

সম্পাদকীয়

পিতামাতারা হলেন সন্তানদের বড় আশ্রয়ের একটি জায়গা। আর সেখানে তারা আশ্রয় নিয়ে নিজেদের জীবন গঠন করে। জীবন গঠন করতে মা বাবার সাহায্য দরকার। কেননা পরিবারকেই ছেলেমেয়েদের প্রথম শিক্ষার আসর। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে অনেক সময় মা বাবাও ব্যর্থ হয়ে যান ছেলেমেয়েদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এটা হতে পারে পরিবেশের কারণে, কিম্বা মা বাবার অতিরিক্ত প্রশ্রয়ের কারণে, কিম্বা ছেলেমেয়ের সঠিক শিক্ষার অভাবের কারণেও হতে পারে, তবে যুগের প্রযুক্তিও অনেকটাংশে দায়ী বলতে হবে। কেননা প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হলেও মানুষ সেটাকে অকল্যাণেও ব্যবহার করে।

প্রিয় সময়ে ‘শেরপুরের শ্রীবরদীতে পেট্রোল ঢেলে মাকে পুড়িয়ে হত্যা’ ঘটনাটি আমাদের অনেক বিষয় ইঙ্গিত করে। উঠতি বয়সী উচ্ছৃঙ্খল ছেলের হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ হারারো হতভাগী মা। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের শ্রীবরদীতে। নিজের ছেলে আবু হানিফ (১৪) মায়ের শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মেরেছে। এই ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, আমরা কোন পরিস্থিতির মধ্যে আছি! নিশ্চিত আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি আমরা সামনের দিকে দেখতে পাচ্ছি।

পরিবারগুলোতে উঠতী বয়সী ছেলেমেয়েদের কিছু বাড়তি আবদার থাকে। যা হয়তো পরিবারের পক্ষ থেকে সেটা মেটানো সম্ভব হয় না। কেননা, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতির বাজারে সংসার চালানো বড়ই কষ্ট। কিন্তু সেটা ছেলেমেয়েরা মোটেও বুঝতে চায় না। তারা যখন দেখে যে, তাদের সমবয়সীদের হাতে ভালো মোবাইল ব্যবহার করতে দেখে তখন তারাও সে রকমই পাওয়ার জন্যে বায়না ধরে। কিন্তু সেটা হয়তো সব মা বাবার জন্যে সামর্থের মধ্যে থাকে না।

কিছু কিছু মা বাবা আছে তারা বিদেশগামী। বাবা দীর্ঘদিন বিদেশ করে এবং বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠায়। আর তাদের ছেলেমেয়েরা ইচ্ছামতো খরচ করে। তাদের হাতে থাকে দামী মোবাইল। ভালো কোনো মোটর সাইকেল। তখন তাদের সাথে সমবয়সী বন্ধুরাও তেমনটি মা বাবার কাছে দাবী করে বসে। কিন্তু তাদের দাবী পূরণ করার মতো সব মা বাবাদের সম্ভব হয় না। আর তখনই হয় বিপত্তিটা। তখন বন্ধুদের সাথে মিশতে লজ্জাবোধ করে বা ইতস্তত করে।

আর তাদের জিদ আরো চেপে যায়। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে ছেলেটির কর্মকা-ে সে রকমই প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেও মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার বায়না ধরেছিলো। কিন্তু হতভাগা মায়ের সেই সামর্থ হয়নি। তাই জিদ করে সুযোগ বুঝে রাতে মায়ের শরীরে প্রেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ছেলে হানিফ। এরপরে আহত আস্থায় মা হনুফা বেগমকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকায় হস্তান্তর করা হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে; চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি সেই পরিবারের জন্যে অত্যন্ত কষ্টকর; সেই সাথে আমাদের সকলেরই। আমরা মনে করি একমাত্র সুশিক্ষাই পারে এ পরিবারের সন্তানদের নিয়ন্ত্রণ করতে। এজন্যে ছেলেমেয়েদের সাথে কাউন্সিলিং করা দরকার। তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা দরকার। তাহলে তারা পরিস্থিতি বুঝতে পারবে; আর এভাবে কোনো মাকে নৃশৃংসভাবে মৃত্যুবরণ করতে হবে না।

You might like