

অধ্যায়-৪
কমিউনিজমের প্রকোপ থেকে একটি দেশ উদ্ধার
মূল : জন পার্কিন্স
অনুবাদ ও সম্পাদনা : জালাল কবির, টরন্টো, কানাডা

আমার মধ্যে ইন্দোনেশিয়াকে নিয়ে একটি রোমান্টিকতা ছিল। যে দেশে আমাকে পরবর্তী তিনটি মাস থাকতে হবে। যেসব বইপত্র আমি পড়েছি, তার কয়েকটির মধ্যে উজ্জল ও বর্নিল সারোঙ পড়া সুন্দরী মহিলাদের কাহিনী সহ ছবি ছিল। বালিদ্বীপের লোভনীয় চেহারার নর্তকী, শামান্রা আগুনে ফুঁ দিচ্ছে, ধোঁয়া উঠা আগ্নেয়গিরির পাদদেশে পান্না রঙের নদীর জলে যোদ্ধারা গাছের গুঁড়ি খুঁড়ে তৈরি লম্বা ডিঙ্গি বয়ে চলেছে। বিশেষ চমক-লাগানো ছবির একটি সিরিজ ছিল- কুখ্যাত বুগি জলদস্যুদের মনোমুগ্ধকর কালো রঙের পালতোলা জাহাজ। যারা এখনও দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন সাগরে তাদের নৌযানে চলাচল করে। ইউরোপীয়ান-নাবিকরা যখন প্রথম এ অঞ্চলে আগমন করেছিল, তারা তাদের এত ভয়ঙ্করভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত করেছিল যে তারা ঘরে ফিরে শিশুদের সাবধান করত, “দুষ্টামি করোনা, শান্ত হয়ে থাকো। নাহলে বুগিরা এসে তোমাদের নিয়ে যাবে”। আহ! এই ছবিগুলি আমার আত্মাকে কিভাবে আলোড়িত করেছিল তা আজো ভাবলে চমকে উঠি।
এ দেশের ইতিহাস ও কিংবদন্তিতে বিশালদেহী সব প্রাণী-মূর্তির প্রাচুর্য। ভয়ঙ্কর ও ত্রাসী দেবতা, কমোডো ড্রাগন, আদিবাসি সুলতান, আর আছে প্রাচীন কাহিনী। যীশুখৃষ্টের জন্মের বহু আগে এশিয়ার পাহাড়-পর্বত ছাড়িয়ে ও পারস্যের মরুভুমির মধ্য দিয়ে ভুমধ্যসাগর পেরিয়ে ভ্রমনের বিবরন। আমাদের যৌথ অন্তরাত্মার চৈতন্যের গভীর অঞ্চলে এসব স্মৃতি দৃঢ়ভাবে গেঁথে আছে। এখানকার দ্বীপগুলির কল্পকাহিনীর মত নাম- জাভা, সুমাত্রা, বোর্নিও, সুলাভেজী মনকে প্রলোভিত করে। দেশটি হল মরমিবাদের, আধ্যাত্মিক, পৌরাণিক, এবং মনোহারী সৌন্দর্যের। একটি পলাতক সম্পদ, কলম্বাস পেতে চেয়েছেন কিন্ত কখনও খুঁজে পাননি। এ হল সেই রাজকুমারী যার মন জয় করার চেষ্টা সবাই করেছে। কিন্ত স্পেন, হলান্ড, পর্তুগাল, জাপান কেউ তাকে পায়নি। একটি অলীক কল্পনা, একটি স্বপ্ন।
আমার প্রত্যাশা ছিল অনেক উচু। যা তথ্যসন্ধানী-ভ্রমনকারী কলম্বাসের প্রতিচ্ছবির মত। যদিও আমাকে জানতে হবে কিভাবে কল্পনায় রঙ চড়ানো যায়। সম্ভবত আমি অনুমান করতে পেরেছিলাম, একটি গন্তব্যের আলোক-সঙ্কেত, যা আবার সব সময় আমরা মনে মনে ভাবিনা। ইন্দোনেশিয়া ধনসম্পদের ইশারা করে। কিন্ত সে সবধরনের সঙ্কট মোচনের বাক্স নয়। ‘সব পেয়েছির দেশও‘ নয়, যা পাবার আশায় আমি এখানে এসেছি। বস্তুতঃ ১৯৭১ সালের গ্রীষ্মকালে ইন্দোনেশিয়ার ধোয়াচ্ছন্ন রাজধানী জাকার্তায় আমার প্রথম দিনগুলি, আশাভঙ্গের।
সৌন্দর্য অবশ্যই উপস্থিত। বর্ণাঢ্য সারোঙ পরা জমকালো মহিলা। গ্রীষ্মমন্ডলীয় পুষ্প আর লতাপাতায় সমৃদ্ধ মনোমুগ্ধকর বাগিচা। চমকপ্রদ বালি-নর্তকী। সাইকেল-রিকশার দুই পাশের উঁচু বসার জায়গায় অলীক কল্পনা আর রঙধনু রঙের চিত্রমালা। যেখানে আরোহী চালকের সামনে হেলান দিয়ে বসে। ডাচ-উপনিবেশিক অট্টালিকা এবং ক্ষুদ্র দুর্গের মত মসজিদ। কিন্ত শহরের একটি বিশ্রি এবং দুঃখজনক দিকও আছে। কুষ্ঠরোগীরা হাতের বদলে রক্তাক্ত কাঠের মুড়া বাড়িয়ে দেয়। অল্পবয়েসী যুবতীরা কয়েকটি মুদ্রার বিনিময়ে তাদের দেহ বিক্রি করে। এক সময়ের জমকালো ডাচ-খালগুলি এখন আস্তাকুঁড়। নদীর জল আবর্জনায় কালো হয়ে গেছে। অপরিচ্ছন্ন নদীর পারে কার্ডবোর্ডের জীর্ণ কুটিরে গোটা পরিবার বাস করে। হৈ চৈ- চিৎকার এবং চোখ জ্বালা করা ধোঁয়া। সুন্দর এবং অসুন্দর, মার্জিত এবং অমার্জিত, আধ্যাত্মিক এবং নাস্তিক এই হল জাকার্তা। যেখানে লবঙ্গ আর প্রস্ফুটিত অর্কিডের আকর্ষনীয় সুগন্ধ, খোলা নর্দমা আর আবর্জনা থেকে নির্গত দুর্গন্ধের সাথে প্রভুত্বের লড়াই করে।
আমি আগেও দারিদ্র্য দেখেছি। নিউ হ্যাম্পশায়ারে আমার কিছু সহপাঠি ত্রিপলের চালায় বাস করত, যেখানে শুধু ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা ছিল। শীতের সময় যখন তাপমাত্রা শুন্যের নীচে, তারা স্কুলে আসত পাতলা জ্যাকেট পরে। পায়ে ক্ষয়ে যাওয়া টেনিস খেলার কেডস। তাদের ¯œানবিহীন গায়ে পুরোনো ঘাম আর সারের তীব্র দুর্গন্ধ। আন্দিজে কৃষকদের সাথে আমি নিজেও কাদার তৈরি কুঁড়েঘরে থেকেছি। যাদের পুরো খাদ্য-তালিকা ছিল শুধুমাত্র শুকনো গম এবং আলু। যেখানে মাঝে মাঝে মনে হত, একটি নবজাত শিশুর পরবর্তী জন্মদিনের আগেই মরে যাবার সম্ভাবনা বেশি। আমি গরীবি দেখেছি, কিন্ত কখনই আমি জাকার্তার জন্য প্রস্তুত হতে পারিনি।
আমাদের টিমের জন্য অবশ্য এখানকার সবচাইতে দামী হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ইন্দোনেশিয়া। মালিক ‘প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজ’। বাকি সব অন্যান্য কন্টিনেন্টাল হোটেলের মতই, যা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। এখানে ধনী বিদেশীদের ইচ্ছানুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে তেল-প্রশাসক এবং তাদের পরিবারের জন্য। প্রথম দিন বিকেলে, আমাদের প্রোজেক্ট ম্যানেজার চার্লি ইলিংওয়ার্থ হোটেলের উচ্চতম তালায় অভিজাত রেষ্টুরেন্টে আমাদের ডিনারে আমন্ত্রন জানালেন।
চার্লি যুদ্ধের সমঝদার। অধিকাংশ ছুটির সময় সে ইতিহাসের বই এবং ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়ে কাটায়। যাদের বিষয়বস্তু মহান সামরিক নেতা এবং যুদ্ধ। ভিয়েতনাম যুদ্ধে আহত হয়ে যারা হুইল চেয়ারে বসে চলাফেলা করে, সে তাদের পক্ষ নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করে। যথারীতি, এ রাতে সে খাকি ট্রাউজার ও হাফ হাতা সার্ট পরেছিল। দুই কাঁধে ছিল মিলিটারী ব্যাজ।
আমাদেরকে শুভাগমন জানানোর পর, সে একটি সিগার ধরাল। “জীবনের স্ফুর্তির জন্য”, হাতে একটি স্যাম্পেনের গøাস তুলে সে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলল।
আমরা তার সাথে যোগ দিলাম। “জীবনের স্ফুর্তির জন্য” পরস্পরে আমরা আমাদের গøাসে টোকা দিলাম।
সিগারের ধোঁয়া তার চারপাশে ঘুরছে। চার্লি ঘরের চারদিকে দেখছে। “আমাদের এখানে অত্যধিক প্রশ্রয় দেয়া হবে” খুশির সাথে মাথা দুলিয়ে বলল সে। “ইন্দোনেশিয়ানরা আমাদের ভালোমতই দেখভাল করবে। তেমনি আমেরিকার দুতাবাসের লোকজনও। কিন্ত ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের একটি দায়িত্ব রয়েছে যা সম্পাদন করতে হবে”, হাতে ধরা অনেকগুলি কার্ডের প্রতি তার দৃষ্টি। “হ্যাঁ, আমরা এখানে এসেছি জাভার বিদ্যুতায়নের জন্য একটি মাষ্টার-প্ল্যান কার্যকর করতে। জাভা হল পৃথিবীর সবচাইতে জনবহুল এলাকা। কিন্ত এটি হিমবাহের শুধু শীর্ষবিন্দু।”
তার কথাবার্তা এখন গম্ভীর। সে আমাদের জর্জ সি-স্কটের কথা মনে করিয়ে দিল। যে জেনারেল প্যাটনের ভুমিকায় অভিনয় করেছে, চার্লির অন্যতম নায়ক। “আমরা এখানে এসেছি দেশটিকে কম্যুনিজমের খপ্পর থেকে রক্ষা করার জন্য। তার কিছু কম নয়। আপনারা জানেন, ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে দীর্ঘ এবং দুঃখজনক ইতিহাস। এখন এই সময়ে এ দেশটি যখন নিজেকে বিংশ শতাব্দিতে প্রবেশ করানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, একে পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব হল এটা নিশ্চিন্ত করা, ইন্দোনেশিয়া যেন তার উত্তরের প্রতিবেশী, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, এবং লাওসের পদচিহ্ন অনুসরন না করে। সমন্বিত বিদ্যুত-ব্যবস্থা একটি মুল উপাদান। যা, অন্য যে কোনো একক বিষয় (তেলের সম্ভাব্য ব্যতিক্রম সহ) থেকে অনেক বেশি পুঁজিবাদ এবং গণতান্ত্রিক শাসনের আশ্বাস প্রদান করে।
‘আমি তেলের কথা বলছি’, সে বলল। সিগারে আরেকটি টান দিয়ে সে কয়েকটি নোট-কার্ড উল্টেপাল্টে দেখল। “আমরা সবাই জানি, আমাদের নিজেদের দেশ তেলের উপর কতটা নির্ভরশীল। এ ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া আমাদের একটি শক্তিশালী মিত্র হতে পারে। সুতরাং যখন আপনারা মাষ্টার-প্ল্যানের উন্নয়ন করবেন, দয়া করে যতটা সম্ভব আপনারা প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহন করবেন, যাতে তেল-শিল্প এবং অন্য যা কিছু এর জন্য প্রয়োজন- যেমন; বন্দর, পাইপলাইন, নির্মান-কোম্পানি, সব কিছুই নিশ্চিত হয়। ২৫ বছর-পরিকল্পনার গোটা সময়ে বিদ্যুতায়নের জন্য যা যা প্রয়োজন, সব কিছুর ব্যবস্থা করবেন।”
নোট-কার্ড থেকে চোখ তুলে সে সরাসরি আমার দিকে তাকাল। অধিক প্রত্যাশা করে ভুল করা, অবমুল্যায়ন করার চেয়ে উত্তম। আপনারা আপনাদের হাতে ইন্দোনেশিয়ার শিশুদের না আমাদের রক্ত চান ? আপনারা তো চান না তারা হাতুড়ি আর কাস্তে (কম্যুনিজমের প্রতীক) বা চীনের লাল পতাকার নিচে বাস করুক”।
যখন রাতে আমি শহরের অনেক উঁচুতে, একটি প্রথম শ্রেণীর লাক্সারী স্যুইটে আমার বিছানায় শুয়ে আছি। ক্লডিনের একটি প্রতিচ্ছায়া আমার মনে এল। বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে তার কথাবার্তা আমাকে পিছু-তাড়া করে। আমি নিজকে বিশ্রাম দেবার চেষ্টা করলাম। আরাম চাইলাম। বিজনেস স্কুলে আমার মাক্রো-অর্থনীতির ক্লাসে যেসব আলোচনা হয়েছে, যেসব পাঠ থেকে আমি শিক্ষা পেয়েছি সেসব চিন্তা ভাবনা থেকে একটু আত্মশান্তনা পেতে চাইলাম।
যাইহোক, আমি নিজেকে বললাম, আমি এখানে এসেছি ইন্দোনেশিয়াকে একটি মধ্যযুগীয় অর্থনীতি থেকে উত্থিত করতে। যাতে দেশটি আধুনিক শিল্প-বিশ্বে তার স্থান নিতে পারে। কিন্ত আমি জানতাম সকালে আমি জানালা দিয়ে যখন তাকাব তখন হোটেলের বাগিচার প্রাচুর্য আর সুইমিঙ পুল দেখবো। পাশাপাশি দেখব অনেক মাইল দুরে কুঁড়েঘরের সারি, ডানার মত বিস্তৃত হয়ে আছে। আমি নিশ্চয়ই জানতে পারবো সেখানে খাবার আর বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে। শিশু এবং বয়স্করা একইভাবে ভয়ঙ্কর সব রোগে ভুগছে আর ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বসবাস করছে।
বিছানায় এপাশ ওপাশ করে আমি ভেবে দেখলাম, চার্লি এবং আমাদের টিমের অন্য সবাই এখানে এসেছে স্বার্থগত কারনে, এটা অস্বীকার করা অসম্ভব। আমরা আমেরিকার বৈদেশিক নীতি ও কর্পোরেট স্বার্থের বিজ্ঞাপন। ইন্দোনেশিয়ার বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজনের জীবন উন্নয়ন করার কোন বাসনা নয় বরং আমাদের চালনা করে লোভ। একটি শব্দ মনে এল ‘কর্পোরেটোক্রেসি‘ (কর্পোরেশনের দাসত্ব)। আমি জানিনা এ শব্দটি আমি আগে কোথাও শুনেছি কিনা বা এইমাত্র আবিস্কার করলাম। কিন্ত মনে হল, এটা দিয়ে নিখুঁতভাবে নতুন ‘এলিট‘ সম্প্রদায়কে বর্ণনা করা যায়। যারা এ গ্রহে প্রভুত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এসব কর্পোরেশান কয়েকজন ব্যক্তির খুবই একান্তভাবে বুনন করা একটি ভ্রাতত্ব, যারা তাদের লক্ষ্য নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। প্রায়ই কর্পোরেট বোর্ড এবং সরকারি পদস্থদের মধ্যে সৌভ্রাত্রের সদস্যরা সহজভাবে চলাফেরা করে। আমি ভেবে ঘা খেলাম, বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, রবার্ট ম্যাকনামারা একটি নিখুঁত উদাহারন। ফোর্ড মটর কোম্পানীর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে গিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট কেনেডি ও জনসনের অধীনে দেশরক্ষা-মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। এখন পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী অর্থনৈতিক সংস্থার সর্বোচ্চ আসন দখল করেছেন।
আমি আরও উপলব্ধি করেছিলাম, আমার কলেজের অধ্যাপকরা মাক্রো-অর্থনীতির আসল মর্মটি বুঝেননি। অনেক ক্ষেত্রে একটি অর্থনীতির উন্নয়নে সহায়তা করার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে যারা পিরামিডের চুড়ায় বসে আছে, সেই সব সামান্য কয়েকজন ব্যক্তির ঐশ্বর্য বৃদ্ধি করা। যাদের অবস্থান তলায়, তাদের জন্য এ সহায়তা একবারেই নিরর্থক। বরঞ্চ তারা আরও নিচে নেমে যায়। অবশ্য, পুঁজিবাদ সংগঠনে সহায়তার পরিণামে প্রায়ই এমন একটি প্রক্রিয়ার জন্ম হয়, যা মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক সমাজের মত। যদি আমার কোনো অধ্যাপক এটা জানতেন, তারা এটা স্বীকার করতেন না-সম্ভবত বৃহৎ কর্পোরেশনগুলির কারনে। যেসব ব্যক্তি এসব পরিচালনা করে, তারা কলেজের তহবিলে চাঁদা দেয়। সত্যকে উদঘাটন করলে নিঃসন্দেহে এইসব অধ্যাপকদের চাকরি চলে যাবে। যেমন এ ধরনের গুপ্ততথ্য ফাঁস করলে আমার চাকরিও যাবে।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ইন্দোনেশিয়াতে যে ক‘দিন ছিলাম, এই সব ভাবনা প্রতিরাতেই আমার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাত। শেষের দিকে আমার আত্ম-সমর্থনের অজুহাত ছিল খুবই উচ্চস্তরের ব্যক্তিত্ব। আমি সেই নিউ হ্যাম্পশায়ারের শহর, প্রিপারেটরি স্কুল, এবং বাধ্যতামুলক সামরিক নির্বাচন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য লড়াই করে পথ বের করেছি। কয়েকটি যুগপৎ ঘটনা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে, একটি উত্তম জীবনের স্থান অর্জন করেছি। আমি এ সত্যটি ভেবেও আরাম বোধ করেছি। আমার সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি সঠিক কাজই করছি। একজন সফল এবং সন্মানিত অর্থনীতিক হবার জন্য আমি আমার পথ বেছে নিয়েছি। আমি তাই করছি যার জন্য আমাকে বিজনেস স্কুল প্রস্তুত করেছে। আমি একটি উন্নয়নমুলক মডেল বাস্তবায়নের জন্য সহায়তা করছি। যে মডেলটি বিশ্বের সর্বোচ্চ চিন্তা-সরোবরের মনীষিরা অনুমোদন করেছেন।
তথাপি মধ্যরাতে প্রায়ই নিজেকে সান্ত¦না দিতে হয়েছে। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, কোন একদিন আমি সত্যকে প্রকাশ করব। তারপর ঘুম আসার জন্য আমি লুইস ল’ আমোরের পুরোনো-পশ্চিমের বন্দুকধারীদের নিয়ে লেখা উপন্যাস পড়েছি। (চলবে)
আরও পড়ুন : ইকোনমিক হিটম্যান : পর্ব-১
আরও পড়ুন : ইকোনমিক হিটম্যান : পর্ব-২
আরও পড়ুন : ইকোনমিক হিটম্যান : পর্ব-৩
রোববার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫















