

তথ্য-প্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক :
বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি অপরাধীরা এর সুযোগ নিয়ে নতুন ধরনের প্রতারণার পথ তৈরি করেছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিআইডি এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা মোবাইল ফোনে আত্মীয়-স্বজনের কণ্ঠ নকল করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিল। এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং সমাজে সচেতনতার অভাব ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের ভয়াবহ দিক তুলে ধরেছে।

১: অপরাধের কৌশল
– কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা
তারা টার্গেট ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনের কণ্ঠস্বর নকল করে ফোন করত। অসুস্থতা বা জরুরি সমস্যার কথা বলে আর্থিক সহায়তা চাইত।
– ভিক্ষুকদের এনআইডি ব্যবহার
ভিক্ষুকদের সাহায্যের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিমকার্ড ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট) অ্যাকাউন্ট খুলত।
– অর্থ আত্মসাৎ
ভুক্তভোগীরা আত্মীয় মনে করে টাকা পাঠালে তারা তা আত্মসাৎ করত।
২: সামাজিক প্রভাব
– বিশ্বাস ভঙ্গ: আত্মীয়-স্বজনের কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা মানুষের পারিবারিক বিশ্বাসকে নষ্ট করে।
– ভিক্ষুকদের শোষণ: দরিদ্র মানুষদের এনআইডি ব্যবহার করে অপরাধীরা তাদেরকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।
– প্রযুক্তির অপব্যবহার: মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মতো সুবিধাজনক প্রযুক্তি অপরাধের হাতিয়ার হয়ে যায়।
৩: আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা
– সিআইডি অভিযানে নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে।
– ৪টি মোবাইল ফোন ও ৮টি সিমকার্ড জব্দ করেছে।
– দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রতারণার কৌশল উন্মোচন করেছে।
৪: প্রতিরোধ ও সচেতনতা
ব্যক্তিগত সচেতনতা
– অপরিচিত নম্বর থেকে টাকা চাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
– আত্মীয়-স্বজনের কণ্ঠস্বর শুনে যাচাই না করে টাকা পাঠানো উচিত নয়।
– সন্দেহজনক নম্বর ব্লক ও রিপোর্ট করতে হবে।
প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ
– সিমকার্ড নিবন্ধনে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
– মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে বায়োমেট্রিক যাচাই আরও শক্তিশালী করতে হবে।
– কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কণ্ঠ নকল শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
সরকারের করণীয়
– জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারাভিযান চালানো।
– ভিক্ষুক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এনআইডি সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া।
– প্রতারণা প্রতিরোধে আইন আরও কঠোর করা।
৫: ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
বাংলাদেশে প্রযুক্তি যেমন উন্নতির পথ খুলে দিয়েছে, তেমনি অপরাধীরা এর অপব্যবহার করছে। তাই প্রয়োজন স্মার্ট প্রতিরোধ ব্যবস্থা—যেখানে আইন, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতা একসাথে কাজ করবে।
কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের বিশ্বাস, মানবিকতা ও প্রযুক্তির নিরাপত্তার ওপর আঘাত। নতুন সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। প্রযুক্তি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে প্রতারণার মতো অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রকাশিত : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.













