

জিল্লুর রহমান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ):
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা। এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
ক্ষিরপোতা গ্রামের কৃষি শ্রমিক নির্মল কুমার জানান, তিনি, তার স্ত্রী প্রমিলা ও মেয়ে শান্তি রানি একই সাথে সমান কাজ করলেও মজুরি পান ভিন্ন ভিন্ন হারে—পুরুষদের দেওয়া হয় ৩৭০ টাকা, নারীদের ৩৫০ টাকা এবং কিশোরীদের মাত্র ২৫০ টাকা। একই অভিযোগ করেছেন শেফালী রানী, সবিতা রানী, অঞ্জনা, কবিতা ও ববিতা, যারা মাঠে সমানভাবে কাজ করেও কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

শিক্ষার্থী কল্পনা রানী বলেন, তিনি এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন, পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন। সন্ধ্যা রানী, অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী, জানান—“আমরা অনেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে মাঠে কাজ করে বড় হয়েছি। এখন বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে, তাই আমরাই বেশি কাজ করি। কিন্তু আমাদের মজুরি কম।”
মাধাইনগর গ্রামের জমির মালিক নজরুল ইসলাম, মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন দাবি করেন, বয়সভেদে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা হয় এবং এভাবে বহু বছর ধরে চলে আসছে।
উরাও ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ২৩ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তারা জাতিগতভাবে কঠোর পরিশ্রমী হলেও অধিকাংশই ভূমিহীন। কৃষির ওপরই তাদের জীবিকা নির্ভরশীল। এছাড়া ভাদ্র মাসে বিন্যর ফুলের ঝাটা, খেজুর পাটি, তালের পাটি তৈরি, বর্ষাকালে শালুক সংগ্রহ, কাঁকড়া-শামুক-ঝিনুক ধরে সংসার চালান।
উপজেলা উরাও ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ কুটির শিল্পে দক্ষ হলেও এ পেশা প্রায় বিলুপ্তির পথে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালিদ হাসান জানান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষকে কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
















