

মিজানুর রহমান রানা :
বাংলাদেশের নতুন সরকার তথ্যপ্রযুক্তিকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং মেধার সমন্বয় অপরিহার্য। তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চায়।
১: সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি
– ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ
গত এক দশকে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নতুন সরকার এখন “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ব্লকচেইন, সাইবার সিকিউরিটি, এবং ডেটা সায়েন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
– নীতিমালা ও রোডম্যাপ
– জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি (২০২৬-২০৩০)
– ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন রোডম্যাপ (২০২৫-২০৩০)
– সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা

২: মেধাবীদের মানোন্নয়ন
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ জনসংখ্যা। নতুন সরকার তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
– বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান: বিশেষায়িত ICT প্রোগ্রাম চালু
– স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন: তহবিল ও ইনকিউবেশন সেন্টার
– আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও যৌথ গবেষণা
৩: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
– চ্যালেঞ্জ
– দক্ষ জনবল ঘাটতি
– সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি
– অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা
– সম্ভাবনা
– তরুণ জনসংখ্যা
– দ্রুত ইন্টারনেট বিস্তার
– মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সাফল্য
৪: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
– AI ও ডেটা অ্যানালিটিক্স: নতুন বাজার সৃষ্টি
– দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি হাব হওয়ার সম্ভাবনা
– ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং: বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় উৎস
৫: ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
– শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তি-নির্ভর সংস্কার
– গ্রামীণ অর্থনীতিতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ
– আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি পার্ক ও ইনোভেশন হাব
– তরুণদের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম
বাংলাদেশের নতুন সরকার তথ্যপ্রযুক্তিকে শুধু একটি খাত নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে দেখছে। মেধাবীদের মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তির পথে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।
আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে সরকার আর কি কি স্মার্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে?
বাংলাদেশের আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন “স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১” ভিশন, জাতীয় ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন রোডম্যাপ, এবং আইসিটি মাস্টার প্ল্যান। তবে আরও কিছু স্মার্ট পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, যা যুক্তিসহ নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রস্তাবিত পদক্ষেপ ও যুক্তি
১. বিশ্বমানের কারিকুলাম তৈরি ও বাস্তবায়ন
– বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে কারিকুলাম অনেক সময় পুরনো থাকে। বিশ্বমানের কারিকুলাম (AI, ব্লকচেইন, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স) চালু করলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
২. ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সহযোগিতা
– চাকরির বাজারে যে দক্ষতা দরকার, তা অনেক সময় একাডেমিক পড়াশোনায় শেখানো হয় না। ইন্ডাস্ট্রি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রোগ্রাম চালু করলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
৩. টেকনিক্যাল ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার সম্প্রসারণ
– গ্রামীণ ও শহুরে তরুণদের জন্য স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালু করলে দ্রুত দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে। এতে শহর–গ্রামের বৈষম্য কমবে।
৪. স্টার্টআপ ইনকিউবেশন ও ফান্ডিং
– তরুণরা শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হিসেবেও এগিয়ে আসতে পারে। সরকারী ফান্ডিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার থাকলে নতুন উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
৫. আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম
– গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করতে হলে আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট (Cisco, Microsoft, AWS, Google Cloud) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি ভর্তুকি দিয়ে এসব সার্টিফিকেশন সহজলভ্য করে, তাহলে দক্ষ জনশক্তি দ্রুত বাড়বে।
৬. সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা প্রোটেকশন ট্রেনিং
– ডিজিটাল বাংলাদেশে নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ তৈরি করলে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।
৭. গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম
– তরুণদের বিদেশে পাঠিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিলে তারা নতুন প্রযুক্তি শিখে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে।
বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে, তবে আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে, যা শুধু দেশীয় বাজার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে। এতে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং “স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১” লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.













