

তথ্য-প্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক :
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এখানে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বিপুল, যা দেশের উন্নয়নের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। প্রথাগত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে, আত্মনির্ভরশীল করে তোলে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
কারিগরি শিক্ষার সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
– কারিগরি শিক্ষা হলো এমন শিক্ষা যা নির্দিষ্ট পেশা বা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।
– এটি শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং হাতে-কলমে কাজ শেখার ওপর গুরুত্ব দেয়।
– যেমন: ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার টেকনোলজি, অটোমোবাইল, কৃষি, হস্তশিল্প, ফ্যাশন ডিজাইন ইত্যাদি।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা
– দেশে প্রায় ৭,৮১৯টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে (ব্যানবেইস, ২০২২)।
– দক্ষ জনশক্তির হার মাত্র ১৪ শতাংশ, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
– বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ শিক্ষিত বেকার রয়েছে, যাদের অনেকেই উচ্চশিক্ষিত হলেও কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছেন।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি
– দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দ্রুত চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
– বিদেশে শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতা অপরিহার্য।
২. আত্মনির্ভরশীলতা
– কারিগরি শিক্ষা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
– ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিল্প ও সেবা খাতে দক্ষ জনবল নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
– দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
– শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়।
৪. সামাজিক উন্নয়ন
– বেকারত্ব কমে গেলে সামাজিক অস্থিরতা হ্রাস পায়।
– দক্ষতা অর্জন নারীদের ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চ্যালেঞ্জসমূহ
– যুগোপযোগী কারিকুলামের অভাব।
– পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক ও আধুনিক ল্যাবের ঘাটতি।
– শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ।
– সামাজিকভাবে সাধারণ শিক্ষাকে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়, ফলে কারিগরি শিক্ষা অবহেলিত।
সম্ভাবনা ও করণীয়
– কারিকুলাম আধুনিকীকরণ: বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম তৈরি করা।
– প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন: কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ানো ও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন।
– শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান: বৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।
– নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ: নারীদের জন্য বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
– সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব: শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে সংযোগ স্থাপন।
বাংলাদেশের উন্নয়ন নির্ভর করছে দক্ষ জনশক্তির ওপর। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রসারিত করতে হবে। তরুণদের হাতে-কলমে কাজ শেখানো, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষতা অর্জন করানোই হবে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।
প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.













