

সম্পাদকীয় ফিচার
যুদ্ধের ময়দানে এখন এক অদ্ভুত নাটক চলছে। একদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিচ্ছেন— যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে”। অন্যদিকে ইরানের স্পীকার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— “যুদ্ধ কখন বন্ধ হবে, সেটা আমেরিকা নয়, ইরান ঠিক করবে”। এই দুই বিপরীত বক্তব্যই প্রমাণ করে, আলোচনার টেবিল থেকে যুদ্ধের ময়দানে চলে আসা সিদ্ধান্ত ছিল একতরফা এবং অবিশ্বাস্য।
ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। আলোচনার মাঝেই আমেরিকার হামলা তাদের বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে। তাই তারা বলছে— বিশ্বাসঘাতকদের সাথে আর কোনো আলোচনায় বসা যাবে না। এই অবস্থায় ট্রাম্প বাধ্য হয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করেছেন, যাতে ইরানের সাথে আলোচনার পথ খোলা যায়। কারণ দেশে তার জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে।

কাতারের মন্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন— “আলোচনা না করে কেন যুদ্ধ শুরু হলো?”। অর্থাৎ আরব রাষ্ট্রগুলোও বুঝতে শুরু করেছে, আমেরিকা তাদের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়।
অন্যদিকে আমেরিকার ডিফেন্স সেক্রেটারি দাবি করেছেন, ইরানের মিসাইল ক্ষমতা কমে গেছে। অথচ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তেল আবিবে একাধিক মিসাইল আঘাত হেনেছে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে— হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ যেতে দেওয়া হবে না। এর জবাবে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন— “২০ গুণ বেশি হামলা করা হবে”। অথচ তিন দিন আগেই তিনি বলেছিলেন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তাহলে এখন জাহাজ আটকাচ্ছে কে?
যুদ্ধের শুরু থেকেই আমেরিকা ও ইসরাইল দাবি করে এসেছে— খামেনিকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। ইরানের রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষ সরকারের সমর্থনে সমাবেশ করেছে। আমেরিকার বোমা হামলার মাঝেও তারা সমাবেশ ছাড়েনি। তাদের স্লোগান পরিষ্কার— “বোমা মেরে আমাদের দেশ দখল করতে পারবে না”।
এদিকে ইসরাইলের ভেতরেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নেতানিয়াহুর বাসভবনে মিসাইল হামলার খবর ছড়িয়েছে। জনগণ রাস্তায় নেমে যুদ্ধ বন্ধের দাবি করতে চাইলে সরকার আন্দোলন নিষিদ্ধ করেছে।
সব মিলিয়ে চিত্রটা স্পষ্ট। আমেরিকা ভেবেছিলো, ইরানের নেতৃত্ব ধ্বংস করলে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে। কিন্তু হয়েছে উল্টো— জনগণ সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।
হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার দেশ ইরানকে ভুলভাবে বিচার করেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। এই যুদ্ধের একমাত্র সম্ভাব্য পরিণতি হলো— আমেরিকার পরাজয়। কারণ যুদ্ধের ময়দানে শুধু অস্ত্র নয়, জনগণের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই শক্তি আজ ইরানের হাতে দৃঢ়ভাবে ধরা আছে।
প্রকাশিত : বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ খ্রি.











