

ফিচার প্রতিবেদন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বামপন্থীরা একসময় ছিলেন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন, গণঅধিকার দাবি, এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী পাঁচ দশকে তারা ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়েছেন। প্রশ্ন উঠছে—আজকের বাংলাদেশে বামপন্থীরা আসলে কোন পথে আছে?

ঐতিহাসিক শক্তি থেকে দুর্বলতায়
স্বাধীনতার পর বামপন্থীরা শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনের মাধ্যমে জনসমর্থন অর্জন করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক শাসন, এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন তাদের সংগঠনকে দুর্বল করে দেয়। একই মতাদর্শের অসংখ্য দল গড়ে ওঠায় বিভাজন বাড়ে, আর জনসমর্থন ছড়িয়ে যায়।
বর্তমান বাস্তবতা
আজকের বাংলাদেশে বামপন্থীরা নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় কোনো শক্তি নন। বড় দুই দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—রাজনীতিকে এমনভাবে মেরুকরণ করেছে যে সাধারণ ভোটাররা বামপন্থীদের দিকে ফিরতে চান না। ধর্মভিত্তিক দলগুলোও অনেক ক্ষেত্রে বামপন্থীদের জায়গা দখল করেছে।
তবুও তারা পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক নন। শ্রমিক অধিকার, পরিবেশ আন্দোলন, শিক্ষার বৈষম্য, এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বামপন্থীরা এখনও সক্রিয়। তাদের কণ্ঠস্বর ছোট হলেও প্রাসঙ্গিক।
প্রধান সংকট
– ঐক্যের অভাব: একই আদর্শের অসংখ্য দল বিভক্ত হয়ে শক্তি ক্ষয় করছে।
– সংগঠনিক দুর্বলতা: শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে গেছে।
– আধুনিক কৌশলের অভাব: ডিজিটাল যুগে তরুণদের আকৃষ্ট করার মতো প্রচারণা নেই।
– আন্তর্জাতিক প্রভাব: বিশ্বব্যাপী বামপন্থার দুর্বলতা বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়েছে।
সম্ভাবনার দিগন্ত
বামপন্থীদের সামনে এখনও সুযোগ আছে।
– ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠন করলে তারা শক্তি ফিরে পেতে পারেন।
– তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা জরুরি—জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষার বৈষম্য, শ্রম অধিকার ইত্যাদি ইস্যুতে তারা নেতৃত্ব দিতে পারেন।
– ডিজিটাল প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা তাদের নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
– বাস্তব ইস্যুতে মাঠে কাজ করলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব।
বাংলাদেশে বামপন্থীরা আজ প্রান্তিক হলেও তারা অপ্রাসঙ্গিক নন। তাদের দুর্বলতা এসেছে বিভাজন ও কৌশলগত ব্যর্থতা থেকে। যদি তারা ঐক্যবদ্ধ হয়, তরুণদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং বাস্তব ইস্যুতে নেতৃত্ব দেয়, তবে ভবিষ্যতে আবারও তারা দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
প্রকাশিত : বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ খ্রি.











