

তথ্য-প্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক :
ইন্টারনেট আজ আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। শিক্ষা, বিনোদন, যোগাযোগ—সবকিছুই এখন অনলাইনে। কিন্তু এর পাশাপাশি রয়েছে এক বড় ঝুঁকি: অশ্লীল ও ক্ষতিকর কনটেন্ট। শিশু-কিশোররা ইন্টারনেটে প্রবেশ করলে সহজেই এসব কনটেন্টের মুখোমুখি হতে পারে। তাই অভিভাবকদের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে সন্তানদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা।

১. সমস্যার প্রেক্ষাপট
– ইন্টারনেটে অশ্লীল কনটেন্টের সহজলভ্যতা শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
– সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও গেমিং সাইটগুলোতে অনেক সময় অনুপযুক্ত বিজ্ঞাপন বা লিঙ্ক দেখা যায়।
– শিশুদের কৌতূহল তাদের এসব কনটেন্টে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করে।
২. শিশুদের জন্য ঝুঁকি
– মানসিক প্রভাব: অশ্লীল কনটেন্ট শিশুদের স্বাভাবিক চিন্তাধারাকে বিকৃত করতে পারে।
– আচরণগত পরিবর্তন: তারা বাস্তব জীবনে অনুপযুক্ত আচরণ অনুকরণ করতে পারে।
– আসক্তি: একবার এসব কনটেন্টে অভ্যস্ত হলে তা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
– শিক্ষাগত ক্ষতি: পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যায়।
৩. অভিভাবকের করণীয়
– ডিজিটাল সচেতনতা: সন্তানকে ইন্টারনেটের ভালো-মন্দ সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করুন।
– প্যারেন্টাল কন্ট্রোল: মোবাইল ও কম্পিউটারে নিরাপত্তা সেটিংস ব্যবহার করুন।
– সময় নির্ধারণ: ইন্টারনেট ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করুন।
– বিশ্বাসের সম্পর্ক: সন্তান যেন সমস্যার কথা অভিভাবককে বলতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করুন।
৪. প্রযুক্তিগত সমাধান
– ফিল্টারিং সফটওয়্যার: অনুপযুক্ত ওয়েবসাইট ব্লক করতে সাহায্য করে।
– সেফ সার্চ মোড: গুগল, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় করুন।
– কিডস অ্যাপস: শিশুদের জন্য আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করুন, যেমন YouTube Kids।
– মনিটরিং টুলস: সন্তানের অনলাইন কার্যক্রম নজরে রাখুন।
৫. সামাজিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ
– স্কুলে ডিজিটাল লিটারেসি ক্লাস চালু করা জরুরি।
– শিশুদের শেখাতে হবে কীভাবে ভুয়া লিঙ্ক বা অশ্লীল কনটেন্ট চিনতে হয়।
– সামাজিক সংগঠনগুলোকে সচেতনতা ক্যাম্পেইন চালাতে হবে।
৬. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশের মতো সমাজে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ শিশুদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অভিভাবকরা সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিলে তারা সহজেই ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে দূরে থাকতে পারবে।
৭. ভবিষ্যৎ করণীয়
– সরকারকে সাইবার আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
– ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের শিশু-নিরাপদ ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
– অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।
ইন্টারনেট শিশুদের জন্য জ্ঞান ও বিনোদনের বিশাল ভাণ্ডার। কিন্তু অশ্লীল কনটেন্ট তাদের ভবিষ্যৎকে বিপথে নিতে পারে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্ব হলো শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট পরিবেশ তৈরি করা। সচেতনতা, প্রযুক্তি ও নৈতিক শিক্ষা—এই তিনটি স্তম্ভই পারে সন্তানদের অনলাইনে সুরক্ষিত রাখতে।
প্রকাশিত : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
















