দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদের ব্যাংক তথ্য চাইল বিএফআইইউ

নিউজ ডেস্ক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (২ মার্চ) সব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তার তথ্য চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে বিএফআইইউয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তার অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদসহ তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি। আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার আগে পদত্যাগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বর্তমান এমপি নাহিদ ইসলাম।

আসিফের জন্ম ১৯৯৮ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে। তার পিতা মো. বিল্লাল হোসেন ও মা রোকসানা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ছিলেন। ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ করা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাবি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন আসিফ মাহমুদ। বর্তমানে তিনি এনসিপির মুখপাত্র।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যেগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে তুলেছেন। নিচে প্রধান অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলো:

উত্থাপিত অভিযোগসমূহ

অভিযোগবিস্তারিত
ঘুষ ও কমিশন গ্রহণসচিবালয়ে তাঁর নামে “মিস্টার টেন পার্সেন্ট” নামে একটি প্রচলিত অভিযোগ রয়েছে। দাবি করা হয়, তাঁর মাধ্যমে কোনো কাজ করতে হলে ১০% কমিশন দিতে হয়।
জীবনযাত্রা ও ব্যাংক হিসাবের অসামঞ্জস্যঅভিযোগ রয়েছে, তাঁর ঘোষিত ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়-ব্যবহার সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পদত্যাগের সময় তাঁর ব্যাংকে মাত্র ১০ হাজার টাকা ছিল, যা অপরিবর্তিত রয়েছে।
হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিজাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন দাবি করেছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং এই বিচার দেশের মাটিতেই হবে।
তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারঅন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও তদবিরের অভিযোগও রয়েছে।

এই অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ইতিমধ্যে তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

প্রকাশিত : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy