

সজীব হাসান, (বগুড়া) প্রতিনিধি:
এই যুগেও চাকরি করে মাত্র ৪৫০০ টাকা বেতনে৷ স্বামী মারা গেছে প্রায় ২০ বছর আগে৷ একমাত্র সন্তানকে বড় করেছিলেন অনেক কষ্ট করে। সন্তান বড় হয়ে রিক্সা চালিয়ে পরিবারের হাল ধরে। বিয়ের পরে ৪টি কন্যা সন্তান হয় ছেলের৷ কিন্তু, গত ১৬ই ডিসেম্বর হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে প্রাণ চলে যায় তার৷ পরিবারে নেমে আসে নিকষ অন্ধকার৷

ছেলের বউ আর ৪ নাতনিকে নিয়ে দারিদ্রতার চরম অবনমিত পর্যায়ে জীবন সংগ্রাম শুধু হয় তার৷ বলছিলাম বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজিমা বেগম (৬০) এর জীবনের গল্প৷ আজিমা বেগমের মানবেতর এই সংগ্রামের কথা জানতে পারে রাজশাহী থেকে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশন। বিষয়টি জানার পরে গতকাল (১৪ই এপ্রিল) রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশন টিম পৌঁছে যায় বগুড়ার কাহালু উপজেলায়। আজিমা বেগমের জন্য একটি মুদি দোকান প্রস্তুত করে দেয় তার৷
এসময় উপস্থিত ছিলেন রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রুমেল রহমান, সংগঠনের হিসাব রক্ষক তামান্না মুস্তারী, দপ্তর সম্পাদক সামিয়া সুলতানা লিনা, বগুড়া জেলার স্বেচ্ছাসেবী মোঃ গোলাম মোস্তফা এবং এলাকার বেশ কিছু বাসিন্দা৷ দোকান সাজিয়ে দেওয়ার সময় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এলাকার মানুষদের উক্ত দোকান থেকে পন্য ক্রয় করার আহ্বান জানান, এবং পরিবারটির পাশে থেকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন৷ এসময় তিনি বলেন, এটি রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশনের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের ৬ তম প্রজেক্ট৷ রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশন এমন মানুষের সন্ধান পেলে দেশের যে কোনো অঞ্চলে ছুটে গিয়ে মানুষের আয়ের ব্যবস্থা করে দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করবে৷ “প্রজেক্ট স্বাবলম্বীকরণ” ছাড়াও রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশন বিনামূল্যে রক্তদান, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, হুইল চেয়ার প্রদান, বৃক্ষ রোপণ, প্রাকৃতিক দূর্যোগে সেবা প্রদান, মৃতদেহ গোসল ও দাফন সহ ৩২ টি সেক্টর নিয়ে কাজ করছে৷এসকল প্রকল্পের পাশাপাশি যুব সমাজকে কর্মঠ ও বেকারমুক্ত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ভবিষ্যতে পরিচালনা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
প্রকাশিত : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.














