

রফিকুল ইসলাম, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে কৃষকের পাকা বোরো ধান। গত ক’দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নিচু এলাকাসহ বোরো আবাদকৃত ৮হাজার ১শ ৩০ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ৩শ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এতে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মনে আনন্দ বিরাজ করছিল কিন্তু প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কাছে হার মেনে এখন কৃষকের দিশেহারা। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের জলাভ’মি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে কৃষকের পাকা ধান ৩ থেকে ৫ ফুট পানিতে ডুবে গেছে। তাছাড়াও পানের বরজসহ অন্যান্য শাক-সবজি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। উপজেলার শাহেদল, জিনারী, সিদলাসহ গোবিন্দপুর ও পুমদী ইউনিয়নে পানান বিলের পানিতে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কৃষক। অপরদিকে ধান কাটা ও মারাই করার জন্য মুজুরী অশাতিত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
১ জন দিনমজুরকে ১৪শ হতে ১৬শ টাকায় মুজুরী দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার চরপুমদী নয়াপাড়া গ্রামের চান্দু মিয়া (৬৫) ও শরিফ মিয়া (৩০) জানান এবার বোরো ধান আবাদে পানি, সার, বীজ ও লেবার খরচ হিসাব করলে উৎপাদিত মূল্য থেকে খরচ বেশী হয়ে লোকসান দিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ধান তলিয়ে যাওয়ায় এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন প্রিয় সময়কে জানান, ‘‘উপজেলার পৌরসভা সহ ৬টি ইউনিয়নেই উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ও খাল খনন না করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।’’
তিনি কৃষকদেরকে স্বল্প মেয়াদী হাইব্রীড ধান আবাদের পরামর্শ প্রদান করেন। তাছাড়াও আগামী আমন মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদেরকে সার ও বীজের প্রণোদনা দিয়ে সহায়তা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.














