

স্টাফ রির্পোটার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে চাঁদপুরের কৃতিসন্তান সাবেক দু’বারের মহিলা এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপির উপদেষ্টা কারানির্যাতিত নেত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি প্রার্থী আলহাজ রাশেদা বেগম হীরার (এম এ এমফিল) বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
২৯ এপ্রিল (বুধবার) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান। ৩০এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ১২ (২) ধারা অনুযায়ী ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীর তালিকা কমিশনে উপস্থাপন করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। তার ভাষায়, “যতোটি শূন্য পদ ছিলো, ঠিক ততোটিই মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে। ফলে আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা হবে।”
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করায় তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ রাশেদা বেগম হীরা (এম এ এমফিল) বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আজ নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক বিজয়ী ঘোষনা করায় আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছি।
তিনি জানান, এছাড়াও আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁদপুর-১ আসনের এমপি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, চাঁদপুর-২ আসনের এমপি মো: জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর- ৫ আসনের এমপি-ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হককে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই দায়িত্ব আমার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, আমি দেশবাসী এবং দলীয় সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে, স্বচ্ছতা ও সততার সাথে জনকল্যাণে কাজ করতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। আমি আমার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে চাঁদপুরের উন্নয়ন সহ দেশের উন্নয়নে কাজ করতে সকলের ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করছি।
জানা গোছে,আলহাজ রাশেদা বেগম হীরা (এম এ এমফিল) বিএনপির মনোনীত সাবেক দু’বারের মহিলা এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপির উপদেষ্টা কারানির্যাতিত নেত্রী। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে তৃতীয় বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচিত হন। তার পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর জেলায় সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামে। তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ১৯৭৯ সাল থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের ভি.পি. ও জি.এস. পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ছাত্রনেত্রী হিসেবে তিনি ১৯৮১ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশ নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে রাষ্ট্রীয় সফরে নেপাল ভ্রমণ করেন এবং টেলেন্ট স্টুডেন্ট হিসেবে তিনি হিজবুল বাহার সফর ও বঙ্গবভনে আমন্ত্রিত হন। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় যেমন অল্ফাম, সেভ-দি-চিলড্রেন, ভিএসওতে জেন্ডার বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ এ যাবৎ দলের সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি একজন লড়াকু সৈনিক।
তিনি ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদে তিনি দলের মনোনয়নে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চাঁদপুর জেলা শাখার সভানেত্রী ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কালো পতাকা কর্মসূচী চলাকালে ঢাকা পল্টন এলাকা থেকে সাবেক এমপি আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে পুলিশের কাজে বাঁধা সংক্রান্ত মামলায় আসামী দেখানো হয়।
উক্ত মামলায় ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন জানালে আদালত তার জামিন না-মঞ্জুর করেন।
পরে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের (১৩ মার্চ) হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানালে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তার জামিন মঞ্জুর করেন। হাইকোর্টের একটি যৌথ বেঞ্চে তাকে জামিন প্রদান করেন এবং পরবতী আদালত উক্ত মামলা থেকে ( অব্যাহতি) খালাস পান । তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা মরহুম মোঃ রফিকুল ইসলাম মজুমদার।
প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.

















