চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রোগীদের সিট সংকটে দুর্ভোগ চরমে

সজীব খান :

চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে সিটের সংখ্যা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক রোগী সিট না পেয়ে মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

রোগীদের অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদেরও বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাই রোগীর তুলনায় শয্যা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বৃদ্ধি, জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, শয্যা সংকট নিরসন হলে রোগীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। হাসপাতালটিতে অতীতেও রোগীর তুলনায় শয্যার ঘাটতি ও জনবল সংকটের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

এছাড়াও চাঁদপুর সদর হাসপাতালে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও বিশেষায়িত শয্যার তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা সদর হাসপাতালে ছুটে এলেও প্রয়োজনীয় শয্যা না পেয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেককে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য আর্থিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা ও শয্যা নিশ্চিত করা গেলে অনেক শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। কিন্তু শয্যা সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার অভাবে তারা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। দ্রুত শিশু আইসিইউসহ বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা ও শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন জেলার সচেতন মহল।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ আফরাফ আহমেদ জানান,চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, “আমাদের হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা মাত্র ২৫০টি। কিন্তু প্রতিদিনই প্রায় ৫ শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে অনেককে হাসপাতালের বারান্দায় রাখতে হচ্ছে। আবার শয্যা সংকট তীব্র হলে বাধ্য হয়ে কিছু রোগীকে মেঝেতেও অবস্থান করতে হয়। সীমিত অবকাঠামো ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কোনো রোগী যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।”

শিশুদের আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিশু রোগীদের চিকিৎসার বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। নিজস্ব উদ্যোগে ৪টি শিশু আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শিশু রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এসব শয্যায় সব সময়ই চাপ থাকে। একটি শয্যা খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপেক্ষমাণ অন্য রোগীকে সেখানে ভর্তি করা হয়। কিছু লোকবলের সংকট থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

প্রকাশিত : শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

.

You might like