

সজীব হাসান (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই ও মিষ্টি উৎপাদন এবং খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের অভিযোগে দুটি কারখানাকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) শেরপুর পৌর এলাকার ঘোষপাড়ায় পৃথক অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ঘোষপাড়ার চৈতি দধি ভান্ডার ও প্রান্ত দধি ভান্ডার কারখানায় অভিযান চালিয়ে দই ও মিষ্টি তৈরির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। কারখানাগুলোতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। পাশাপাশি প্রস্তুত করা দই ও মিষ্টি খোলা অবস্থায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। অভিযানের সময় সংরক্ষণ করা কিছু মিষ্টির মধ্যে পোকার অস্তিত্বও পাওয়া যায়।

এছাড়া খাদ্যকর্মীদের অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছেন না বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়। একই সঙ্গে পোড়া ও ব্যবহারের অনুপযোগী তেলে খাবার তৈরির বিষয়টিও ধরা পড়ে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা। দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোবাইল কোর্টে চৈতি দধি ভান্ডারকে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রান্ত দধি ভান্ডারকে ৫০ হাজার টাকা, অর্থাৎ দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন শেরপুর, বগুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান। অভিযানে বগুড়ার নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেল, শেরপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক তাহমিনা আক্তারসহ অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় শেরপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক ও কর্মচারীদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকাশিত : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

















