

সজিব খান :
চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, “মাদক আমাদের দেশে উৎপাদন হয় না। মাদকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে শুধু অভিযান পরিচালনা করে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবারকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিবারের অসচেতনতার কারণে অনেক সন্তান মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজ রাখতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে চলাফেরা করছে এবং তার বন্ধু-বান্ধব কারা, সেদিকেও নজর দিতে হবে।”
মাদকের কারণে শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনও নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষাজীবন শেষ করে কেউ চাকরিতে প্রবেশের সময় ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়লে চাকরির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তরুণদের মাদক থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে।
তিনি সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। পরিবার থেকেই শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রকাশিত : রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬














