

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের খামার রসুলপুর গ্রামে ৮ বছরের শিশু মোরশেদ আলীর মৃত্যু ঘিরে যে উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তার মূল কালপ্রিট এই মমিনুল ইসলাম মামুন। ঘটনার দিন গত ৪ সেপ্টেম্বর শিশুটির মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার পরিবার ও স্বজনরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রামের হত দরিদ্র শ্রমিক মঞ্জু আলম। পরিবারে বাবা,মা স্ত্রী ও হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে তার মানবেতর জীবন কাটে। মঞ্জু আলম দিন আনে দিন খায়। খাবার না জুটলে উপোষ জুটে তার কপালে।

এই মঞ্জু আলমকে নিঃস্ব বানিয়েছে মমিনুল ইসলাম মামুন ও তার পরিবার। অথচ তারাই সাংবাদিকদের সামনে গ্রামের সাদাসিধে লোকদের পেইড স্বাক্ষী বানিয়ে নিজেদের পক্ষে সাক্ষ্য নেওয়ার চেষ্টা করে।
তাদের মধ্যে বদিউজ্জামাল (৬৬), বয়েজউদ্দিন (৭৫) আমিনুল ইসলাম (৪৬) বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে মমিনুল জড়িত নেই, তার বড় ভাই ও ভাতিজারা জড়িত। গ্রামে এ ব্যাপারে অনেক সালিশ হয়েছে। মঞ্জুর পরিবারকে সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য কিছু টাকা-পয়সা দেয়া হয়েছে।
অসহায় মঞ্জু আলমের পিতা আফছার আলী বলেন, আমাদের টাকা নেই কোন স্বাক্ষী নেই, আমাদের স্বাক্ষী একমাত্র আল্লাহ।
সরেজমিনে জানা যায়, রসুলপুর মৌজার এসএ-১২৩৬ খতিয়ানের ৯৩২৯ দাগসহ কয়েক দাগে ৩ একর ৪১ শতাংশ জমির ৪৭ শতাংশ জমি ছিল মঞ্জু আলমের পিতা আফছার আলী ও তার ফুফুদের। সেই জমি জোর জবরদস্তি করে দখলে নেন মনিনুল ইসলাম মামুন গং। মমিনুল নিজেকে বর্তমান ঘোগাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছেন এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেকে তার দলের লোক হিসেবে জাহির করছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মঞ্জু আলমের ৮ বছরের সন্তান মোরশেদ আলী মাত্র সাত মাস বয়স থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। খালি গায়ে দেখলে শিশুটির হৃদপিণ্ড বাইরে থেকে বোঝা যেত স্পষ্ট ।
দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন এই পরিবার।
এক সময় ছেলের চিকিৎসার জন্য পাওনা জমি উদ্ধারে হাত-পা ধরেন মমিনুল গংয়ের। নিরুপায় হয়ে আদালতে সিভিল মামলাও দায়ের করেন। কথায় আছে- জোড় যার মুল্লুক তার। একসময় পেশীশক্তির কাছে হেরে যান মঞ্জু আলম। সন্তান হারার আর্তনাদে তার বুক ভাঙে। অপরদিকে মমিনুল গং গরীব-অসহায় এই মাজলুমকে মাদকসেবী বানিয়ে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টাও করেন।
তবে এসব দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এনসিপির রাজনীতির সাথে জড়িত, সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছি, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। আমার নামে অভিযোগ নেই, আমার ভাই ও ভাতিজাদের অভিযোগ আমার উপরে চাপানো হচ্ছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে সন্তানহারা পিতা মঞ্জু আলম বলেন, “আমার ছেলে চিকিৎসা আমি এই ভূমিদস্যুদের জন্য করতে পারি নাই। ৮ বছর থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত আমার সন্তান ধুকে ধুকে মারা গেল, তবু তাদের দয়া হয়নি। আমি মমিনুল গংদের বিচার চাই।”
অপরদিকে এলাকাবাসীর দাবি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মমিনুল ইসলাম মামুন গংদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
প্রকাশিত : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬














