রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ১০ পরিবারে কে, সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রায়পুর উপজেলা শাখা

মোঃ হৃদয় হোসেন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া ১০টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, রায়পুর উপজেলা শাখা। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ অর্থ তুলে দিয়ে তাদের দুঃসময়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

শনিবার সকালে রায়পুর উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি বাজারসংলগ্ন আসাদ আলী বেপারী বাড়িতে (স্থানীয়ভাবে লেংড়ার বাড়ি নামে পরিচিত) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এ নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সার্বিক সহযোগিতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রায়পুর শাখার আহ্বায়ক ও দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা এর রায়পুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শিপন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদুর রহমান দুলাল, সদস্য সচিব মো. আরিফ হোসেন, মো. শাহ পরান, জাহিদ হোসেন জুয়েল, মিজানুর রহমান, সাহেদ আল মামুন, ইব্রাহিম কবির নাজিম, রেওজয়ান হোসেন রেজু, ইয়াসিন আরাফাত, জুয়েল হোসেন ও আরিফুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ভোররাত আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটের দিকে সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদ আলী বেপারী বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় প্রথম দিকে বিষয়টি অনেকের নজরে আসেনি। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো বাড়িতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে, একের পর এক বসতঘর ও দোকান আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যেতে থাকে। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে ১১টি পরিবারের ১৬টি বসতঘর ও ৬টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।আগুনে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ব্যবসার মালামাল, জমির প্রয়োজনীয় দলিলপত্র, প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। আগুনের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই পরনের কাপড় ছাড়া কার্যত সবকিছু হারিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি, ব্যবসার পুঁজি, আসবাবপত্র ও সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব।

এক মুহূর্তের আগুনে কারও ঘর, কারও ব্যবসা, আবার কারও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেক সদস্য বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, আগুনে শুধু বসতঘরই নয়, তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অবলম্বনটুকুও ধ্বংস হয়ে গেছে। নতুন করে ঘর নির্মাণ ও জীবন-জীবিকা শুরু করার মতো আর্থিক সক্ষমতা অনেক পরিবারের নেই।

অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রায়পুর উপজেলা শাখা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

শনিবার সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো এবং ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের কাজে কিছুটা সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সহায়তা গ্রহণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও শেষ হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যবসার মালামাল—সবকিছু পুড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিক ভাইদের দেওয়া এই অর্থ আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। আমরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদেরও আমাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারানোর পাশাপাশি অনেক পরিবার তাদের আয়-রোজগারের উৎসও হারিয়েছে। ফলে শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য বা আর্থিক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুনরুদ্ধার এবং জীবন-জীবিকা পুনরায় গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিপদের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর পাশে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রায়পুর শাখার এই মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তাদের দুর্দিনে মানসিক শক্তিও জোগাবে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আরও বড় পরিসরে সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এগিয়ে এসে এসব পরিবারের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখবেন।

প্রকাশিত :  ‍শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

You might like