

নিউজ ডেস্ক :
মোবাইলে ফোনের পরিচয়ে কলেজছাত্রীর সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেড় বছর প্রেম করার পর পালিয়ে বিয়ে করেন সামসুন্নাহার আক্তার পিংকি (২০) নামে কলেজছাত্রী। এরপরই ঘটে বিপত্তি, কারণ ওই কাঠমিস্ত্রির স্ত্রী-সন্তান আছে, তা গোপন রেখেছিলেন। আর এর জেরেই লাশ হলেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বড্ডাপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে। এর বিচার চেয়ে ওই ছাত্রীর স্বজনরা সরাইল থানায় একটি মামলায় দায়ের করেন। ইতোমধ্যে তার স্বামী মুক্তার হাসানকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ওই ছাত্রী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের হতদরিদ্র আবদুস সামাদের মেয়ে। তার স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের নসর মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, দুই বছর আগে হবিগঞ্জের বুইদ্দারবাজারে কাঠমিস্ত্রির কাজ করার সময় মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় স্থানীয় বনগাঁও গ্রামের কলেজছাত্রী সামসুন্নাহারের সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের টানে ৮ আগস্ট ভোরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে মুক্তার হাসানকে বিয়ে করেন সামসুন্নাহার। পরে তাকে নিয়ে এক আত্মীয়র বাড়িতে ওঠেন মুক্তার।
খবর পেয়ে ৯ আগস্ট সকালে ওই বাড়িতে হাজির হন মুক্তার হাসানের স্ত্রী-সন্তান। যা তিনি ওই ছাত্রীর কাছে গোপন রেখেছিলেন। সবকিছু জানার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। পরে মুক্তার হাসান ঘর থেকে বের হন। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির লোকজন ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সামসুন্নাহারকে দেখতে পান।
তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এম এম নাজমুল আহমেদ বলেন, রোববার রাতে মুক্তারকে আটক করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া ওই ছাত্রীর লাশ ও ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।









