
মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির :
২০১৮ সালের ২০ অগাস্ট হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন বাঘাসুরা সাকিনস্থ শফিক মিয়ার বাড়ির পাশে কামার খালের পশ্চিম পাশে অর্ধেক পানিতে ও অর্ধেক শুকনায় পচাগলা ও নগ্ন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা পুরুষের লাশ মাধবপুর থানা উদ্ধার করেন।

মাধবপুর থানার এস,আই কামাল হোসেন লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
লাশের কোন দাবীদার বা পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে অজ্ঞাত নামা আসামীদের বিরুদ্ধে এস,আই কামাল হোসেন বাদী হয়ে মাধবপুর থানার মামলা নং ১৮, তারিখ-২০/০৮/২০১৮ইং, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন। মামলাটি মাধবপুর থানার এস,আই আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন তদন্ত করেন।

হত্যার কারন বা লাশের পরিচয় শনাক্ত না করতে পারাই জেলা পুলিশের অনুরোধে পিবি আই হবিগঞ্জ মামলাটি তদন্তের জন্য অধিগ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশ পরিদর্শক মৃনাল দেবনাথ কে দায়িত্ব প্রদান করেন।তিনি তদন্তভার গ্রহন করে অজ্ঞাত নামা মৃতদেহ পরিচয় শনাক্ত সহ হত্যার কারন উদঘাটনের চেষ্টা করতে থাকেন একপর্যায়ে অজ্ঞাত মৃত দেহের দাঁত ও হাড় সংগ্রহ করে ডিএনএ আলামত হিসেবে মৃত দেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করেন। তিনি লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য ঘটনাস্থলের আশেপাশেসহ বিভিন্ন থানা এলাকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে জানতে পারেন ঘটনার ৫/৭দিন আগে বাঘা সুরা গ্রামের গোপেশ রঞ্জন কর নিখোঁজ হয়ে অদ্যাবধি কোন সন্ধান পাননি। তিনি নিখোঁজ গোপেশ রঞ্জন করের বাড়িতে গিয়ে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তার বড় ভাই ভানু রঞ্জন কর জানান তার ভাই নিখোজ কিন্ত যে মৃত দেহটি পাওয়া গিয়াছে সেটি তিনি সহ তাহার পরিবারের অনেকেই দেখেছেন। সেইটি তার নিখোঁজ হওয়া ভাই গোপেশ রঞ্জন করের না।
তদন্তকারি কর্মকর্তা মৃতদেহেত ছবি দেখিয়ে ভালভাবে নিশ্চিত হতে বললে তিনি তার ভাইয়ের লাশ না বলে জানান। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন ভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্ব-উদ্দোগে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিখোঁজ গোপেশ চন্দ্র করের পুত্র সন্তান দিগন্ত রঞ্জন কর (১২) এর ডিএনএ পরিক্ষার জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করেন।
এক পর্যায়ে জানতে পারা যায় নিখোঁজ গোপেশ করের স্ত্রী এক সন্তান সহ পারিবারিক সমস্যার কারনে বাবার বাড়ি চলে যান।এর এক ছেলে বয়স দশ বছর ভানুরঞ্জন এর সাথে আছেন প্রায় দুই বছর যাবত। তখন আমরা স্ব উদ্দ্যোগে ডি এন এ টেস্ট করিতে বললে প্রথমে রাজি না থাকলেও পরবর্তীতে আদালতের আদেশে তাদের অনিহা থাকলেও নিখোঁজ গোপেশ করের ছেলে দিগন্ত কর কে সি আই ডি ঢাকা প্রেরন করে ডি এন এ পরীক্ষা পুর্বক সুদৃঢ় ভাবে প্রমাণিত হয় অজ্ঞাত মৃত দেহটি দিগন্ত রঞ্জন করের পিতা নিখোঁজ গোপেশ করের।
স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য এবং নিখোঁজ গোপেশ চন্দ্র করের ভাইদের পূর্ববর্তী আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভানুরঞ্জন কর ও তাহার ছেলে রিপন করকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কাজ চলছে।











