

ফরিদগঞ্জে ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী-পথচারী
ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ময়লার ভাগাড়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধ পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, দোকান ও হাসপাতালগুলোতে ছড়াচ্ছে। পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে মশা-মাছির উপদ্রব।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে গঠিত ১৯.৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণির ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নেই কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্ট্রিট লাইটিং ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। রাস্তাগুলোরও বেহাল দশা। পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এছাড়া অপরিষ্কার ড্রেনে মশা-মাছির উপদ্রবসহ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা ও দুর্দশাগ্রস্ত ড্রেনের কারণে বাড়ছে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াবাহী মশার প্রকোপ।
অন্যদিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৫ আগস্ট পুড়িয়ে দেওয়া কোটি টাকার পরিত্যক্ত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনের জায়গায় প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। পাশেই কে আর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, বিভিন্ন বিপণি বিতান, খাবার হোটেল, বিপরীত পাশে ইসলামিয়া হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল হাসপাতাল রয়েছে। চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত গাড়ি চলাচল ও লোকজন যাতায়াত করছে ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে। পথচারীদের যাতায়াতে নাক চেপে ধরতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী আবুল কালাম, টুটুল পাটওয়ারী ও প্রধান শিক্ষক মাসুম তালুকদার জানান, ময়লার স্তূপ থেকে মশা-মাছি বাসায়, স্কুলে, খাবার দোকান ও হাসপাতালে ঢুকছে। মাসের পর মাস এই অবস্থা চললেও পৌর কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। আমরা এ অবস্থা থেকে নিস্তার চাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, মহাসড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ময়লার ভাগাড় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। পরিবেশ সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেতু কুমার বড়ুয়া জানান, আমরা গত কয়েক বছর ধরেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জমি খুঁজছি। কিন্তু কোনো স্থান নির্বাচন করলেও স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে তা হচ্ছে না। অন্যান্য সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা না ফেলার জন্য অচিরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

















