ডাক্তার দেখানোর আগেই টেস্ট বাধ্যতামূলক! চাঁদপুরের এই ডাক্তারের ফাঁদে রোগীরা

আগে টেস্ট, পরে ডাক্তার’ – চাঁদপুরে চিকিৎসার নামে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ

চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডে অবস্থিত প্রিমিয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কর্ণধার ডা. মোবারক হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, এখানে ডাক্তার দেখানোর নিয়মটাই উল্টো। রোগীর মুখ থেকে সমস্যা না শুনেই অ্যাসিস্টেন্ট লিখে দেন একগাদা টেস্ট। সেই টেস্টের রিপোর্ট হাতে নিয়েই ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় ডাক্তারের জন্য। রোগীদের দাবি, এটি সরাসরি প্রতারণা ছাড়া কিছুই না।

যেভাবে চলে ‘টেস্ট-চক্র’
বিকেল ৫টায় সিরিয়াল দিলে ডাক্তারের দেখা মেলে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টায়। এই ৪-৫ ঘন্টা সময় রোগীরা চেম্বারে বসে থাকেন না। নিচতলায় নাম লেখানোর পরপরই পাশের রুমে নিয়ে প্রেশার মাপা হয়। তখনই অ্যাসিস্টেন্ট রোগীর দু-একটা কথা শুনে ধরিয়ে দেন টেস্টের লম্বা লিস্ট।

এরপর শুরু হয় আসল খেলা। দুটি স্লিপের একটি রিসিপশনে জমা নিয়ে অন্যটি ধরিয়ে দিয়ে রোগীকে পাঠানো হয় দ্বিতীয় তলায়। বলা হয়, “টেস্টগুলো করিয়ে রাখেন, স্যার রাতে এসে তাড়াতাড়ি দেখে দেবেন।” টেস্ট শেষে রিপোর্ট হাতে আবার সেই অপেক্ষা। রাত ৯টার পর ডা. মোবারক হোসেন এসে শুধু রিপোর্ট দেখে ওষুধ লিখে দেন। রোগী দেখা, সমস্যা শোনা—এসবের বালাই নেই।

সরেজমিন অনুসন্ধান: রোগী সেজে যা দেখা গেল
শনিবার, ২০ জুন বিকেল সোয়া ৫টায় রোগী সেজে প্রিমিয়ার হাসপাতালে যান এই প্রতিবেদক। রিসিপশনে ডা. মোবারককে দেখানোর কথা বলতেই উত্তর আসে, “স্যারকে দেখাতে রাত ৯টা-সাড়ে ৯টা বাজবে।” রাজি হয়ে ‘রুবেল, বাগাদী’ ছদ্মনামে ২২ নম্বর সিরিয়াল নেওয়া হয়।

৩-৪ মিনিট পরেই ডাক পড়ে পাশের রুমে। সেখানে রোগের বর্ণনা শুনেই প্রেশার মেপে অ্যাসিস্টেন্ট টিক চিহ্ন দিয়ে দিলেন কয়েকটি টেস্টে। দুটি স্লিপ হাতে ধরিয়ে রিসিপশন থেকে বলা হলো, “দোতলায় গিয়ে টেস্টগুলো করিয়ে রাখেন।”

রোগীদের ক্ষোভ
হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষারত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী বলেন, “ডা. মোবারকের কাছে আসলেই আগে টেস্ট করায়। অ্যাসিস্টেন্টই টিক দিয়ে দেয় কী কী টেস্ট করাবো। রাতে ডাক্তার আইসা শুধু রিপোর্ট দেইখা ওষুধ লেখে। ডাক্তার যদি না-ই দেখে, তাইলে অ্যাসিস্টেন্ট ওষুধ লিখে দিলেই তো হয়। এত সময় নষ্ট আর টাকা খরচের কী দরকার? এটা তো প্রতারণা।”

দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম চললেও ডা. মোবারক হোসেনের প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। প্রশ্ন উঠেছে, রোগীরা চিকিৎসা নিতে গিয়ে যদি এভাবে আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হন, তাহলে তারা যাবেন কোথায়?

এ বিষয়ে ডা. মোবারক হোসেন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। (সূত্র : দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ)

 

প্রকাশিত : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ খ্রি
.

You might like

About the Author: priyoshomoy