
কথিকা
ক্ষুদীরাম দাস :
রাগ ও অভিমানকখনো কখনো রাগ হওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক। সেই রাগ মনে জায়গা করে নেয়। আর সেই জায়গায় রাগ বাস করে। অর্থাৎ মনের জায়গাটা স্থায়ী করে নিয়ে রাগ দীর্ঘকাল বাস করতে থাকে। কারণ, প্রতিপক্ষ থেকে আমরা দুঃখ পেয়েছি, কষ্ট পেয়েছি। একটা বিষয় পরিস্কার বলে মনে হয় যে, যারা দুঃখ দেয় তারা এ নিয়ে কোনো চিন্তাই করে না। কারণ, যদি চিন্তা করতো তাহলে সাথে সাথে, অর্থাৎ কিছুকাল পরে তার ব্যবহারের জন্যে ক্ষমা চাইতো। কিন্তু না, তা হয় না।

যদি সেটা হতো তাহলে কিন্তু মিটে যেতো সবকিছু। সুতরাং তার মতো মানুষের কাছ থেকে দুঃখ পেয়ে, কষ্ট পেয়ে মনের মধ্যে রাগ ও অভিমান হওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক। তবে এই রাগকে যদি আমরা মনে স্থান দিই তাহলে খুব কাছের মানুষের সাথে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।
যদি দিনের পর দিন আঘাতই পেতে থাকি, তাহলে তার মতো মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করাই ভালো বলে মনে হয়। কারণ, পৃথিবীটা ছোট নয়; অনেক বড়। সুতরাং নতুন মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে খালি জায়গাটা ভরাট করে নিলে পূর্ণতা এমনিতেই চলে আসে।
অতএব, সেই চিন্তা করে দুষ্টদের সাথে সম্পর্ক না রাখলে ক্ষতি নেই কোনো। যতটা পারা যায়, এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে অভিমানকে পুষে রাখলে নিজের মনেই কষ্ট পেতে হয় দিনের পর দিন। হয়তো কষ্ট পাওয়াটা ভালো। কারণ, সম্পর্ক রেখে আঘাতের পর আঘাত পাওয়ার চেয়ে দূরত্ব রেখে চলাই অনেক ভালো।
হোক সেটা দূরত্বের সৃষ্টি। কিন্তু জীবন তো একটাই। সুতরাং জীবনকে ভালোবাসা উচিত স্বার্থপরের মতো; পরে অন্যদের চিন্তা করাটা দারুণ বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা, নিজে ভালো না থাকলে অন্যের ভালো আপনি করতে পারবেন না। কেউ কেউ চাইলেও সবকিছু ভুলে যেতে পারে না।
কারণ, আঘাতটা ভালো যাওয়ার মতো নয়। তবে এটা সত্য যে, সব ভুলে ক্ষমা করে দিলেই সত্যি সত্যি প্রতিটি সম্পর্ক স্থায়ী হয়ে যায়। তবে এজন্যে প্রতিটি পক্ষ যদি ক্ষমা না চায়, তাহলে ক্ষমা করে দেয়ার দরজা খুলে যায় না। তাছাড়া দুষ্ট লোকের ক্ষমা চাওয়ার অর্থ হলো, নতুন করে কোনো ফন্দি আঁটা। সুতরাং সেক্ষেত্রে তাকে কী করে ক্ষমা করা যায়? অতএব, রাগ ও অভিমান তো থাকবেই।









