ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিল-ঘুষিতে রোগীর চিকিৎসা সেবা!

মোঃ মহিউদ্দিন. ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) করেসপন্ডেন্ট :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আঃ রশিদ নামের অজ্ঞান রোগীকে কিল-ঘুষি দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

২১ আগস্ট (শুক্রবার) উপজেলার পৌর এলাকার সাফুয়া গ্রামের আঃ রশিদ (৬০) নামের এক ব্যাক্তিকে পরিবারের লোকজন অজ্ঞান অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাত সোয়া ১টার দিকে নিয়ে আসলে স্যাকমো অলি আহমদ দু‘গালে ও মাথায় কিল- ঘুষি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চিকিৎসা সেবা দিয়েছে বলে রোগী আঃ রশিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম অভিযোগ করে জানায়।

তিনি আরোও জানান, প্রথমে আমরা হাসপাতাল গেইটে এসে দেখতে পাই গেইট বন্ধ অতঃপর আমাদের বাড়ির জাকির নামের সাংবাদিককে জানালে সে, হাসপাতালের টিএইচওকে ফোন করে বলার পর গেইট খুলে দেয়। রোগীর জন্য হুইল চেয়ার চাইলে না দিয়ে বলে নিয়ে আসেন, পরে আমরা হুইল চেয়ার এনে রোগীকে চেয়ারে বসানোর জন্য সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা না করে চলে যায়। আমরা ইমারজেন্সী কক্ষে নিয়ে শোয়ানোর পর স্যাকমো অলি আহমদ ক্ষিপ্ত হয়ে এসে রোগীর দু‘গালে ও মাথায় কিল ঘুষি দিয়ে বলে, বড় স্যারকে ফোন দিলি কেন? আমরা নিরুপায় হয়ে হাসপাতালে আসলাম অথচ আমাদের রোগীকে আমাদের সামনেই এভাবে প্রহার করলো ওরা। তাছাড়া রোগীর মুখে গরম পানি ছুঁড়ে মারে।

এ বিষয়ে সংবাদকর্মী জাকির হোসেন সৈকত জানান, আমি রাতে ১০/১৫ বার হাসপাতালের ইমারজেন্সীতে ফোন দিলেও ফোনটি রিসিভ হয়নি। পরে টিএইচওকে ফোন করে বলার পর হাসপাতাল গেট খুলে দেয়। এর পরেই রোগীকে চিকিৎসার নামে বড় স্যারকে ফোন করলি কেন? বলে কিল-ঘুষি মারতে থাকে ও রোগীর মূখমন্ডলে গরম পানি ছুঁড়ে মারে বলে রোগীর স্ত্রী জাহানারা বেগম জানায়।

এ বিষয়ে গেইট বন্ধ থাকার সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের কর্মচারী বলেন, গেইট বন্ধ ছিল তবে তালা নহে। লকআাপ হ্যান্ডেল লাগানো ছিল। তাই খুলতে একটু দেরী হয়েছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের স্যাকমো অলি আহমদ টিএইচও, রোগীর স্ত্রী জাহানারা বেগম সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রোগীকে কিল- ঘুষি দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমার ভুল হয়েছে। রোগীর মুখে গরম পানি নয়, টেপ থেকে ঠান্ডা পানি ছুঁড়ে মারার সত্যতা স্বীকার করে।

রোগীর সাথের লোকজন জানায়, সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার কারণে রোগীকে আর কোনও সেবা না দেয়ায় রোগী স্বেচ্ছায় বাড়ি চলে যায়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের টিএইচও মোহাম্মদ আশ্রাফ আহমেদ চৌধুরী জানান, ঘটনার বিষয় অবহিত হলাম। তারপরেও আমি সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সত্যতার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

তিনি আরোও জানান, আমি ফোন দিয়েছি ইমাজেন্সীর দায়িত্বে থাকা ডাক্তার মাসুদকে, আমিতো স্যাকমো অলিকে ফোন দেইনি। সে কি করে জানলো?

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বটে। আমি এ বিষয়ে ইউএইচও‘কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবো।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সিভিল সার্জন ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেনের মুঠোফোনে বক্তব্য চাইলে তিনি জানান, আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সত্যতা যাচাই পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

You might like