ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ৮

মিজানুর রহমান রানার ধারবাহিক থ্রিলার : অদৃশ্য আততায়ী। আজ লিখেছেন অষ্টম পর্ব।
আট.

সেন্টমার্টিনের সেই রাতের পর তিন দিন কেটে গেছে। সমুদ্র শান্ত, কিন্তু আলী নেওয়াজের বাড়ির বাতাসে অতীব ঝড়ের পূর্বাভাস। টেকনাফের কুয়াশা মোড়া পাহাড়ি বাংলোর দোতলায় সূরা ইয়াসিন বাজছে মৃদুস্বরে। সম্পা জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে। তার চোখে ঘুম নেই। মোবাইলের স্ক্রিনে সজলের নামটা জ্বলছে-নিভছে। মেসেজটা গতকাল রাতের: ‘তুমি ঠিক আছো তো? বাবা কিছু বলেছে?’

নিচতলা থেকে বাবার গলা ভেসে এলো, ‘সম্পা, নিচে আসো। তোমার সাথে বিশেষ কথা আছে।’

গলাটা শান্ত। কিন্তু এই শান্ত গলার পেছনে যে কত ঝড় লুকিয়ে থাকে, সম্পা জানে। কারণ এই গলাই একসময় কঙ্বাজারের আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপাতো।

সম্পা নামাজের জায়নামাজ ভাঁজ করে বুকে ফুঁ দিল। তারপর ধীর পায়ে নিচে নামল।

ড্রয়িংরুমে আলী নেওয়াজ বসে আছেন। সামনে চায়ের কাপ, কিন্তু ধোঁয়া উঠছে না। ঠান্ডা হয়ে গেছে। পাশে দাঁড়িয়ে তার প্রধান বডিগার্ড কাশেম। টেবিলে একটা ফাইল। ফাইলের উপরে ছবি। সেটা সজলের। পুলিশ ইউনিফর্মে, সিভিলে, লাইটহাউসের সামনে হাতকড়া পরা রবিনকে ধরে আছে।

আলী নেওয়াজ চোখ তুললেন না। শুধু বললেন, ‘বসো।’

সম্পা বসল। তার হাত কাঁপছে না। মাফিয়ার মেয়ে সে। কিন্তু ভালোবাসার সামনে সবাই দুর্বল।

‘এই ছেলেটাকে চিনো?’ আলী নেওয়াজ সামনের ফাইলের দিকে ইশারা করলেন। গলায় ঠান্ডা বরফ।
সম্পা একবার তাকাল। তারপর বাবার চোখে চোখ রাখল। বললো, “‘হ্যাঁ বাবা। ওর নাম সজল। ইরফান স্যারের টিমে কাজ করে।’

কাশেমের চোয়াল শক্ত হলো। আলী নেওয়াজ এবার চায়ের কাপটা সরিয়ে রাখলেন।

‘শুধু নাম জানো, নাকি আরও কিছু জানো? যেমন, গত তিন মাসে তোমার ফোন থেকে ওর নম্বরে ৪৭টা কল গেছে। রাত ১২টার পর ২৩টা। আর মেসেজ…” তিনি ফাইল খুললেন। ‘‘তোমার হাসিটা আমার হৃদয়ের গভীরতম অঙ্েিজন’- এটা কে লিখছে?’

সম্পার গাল লাল হলো। কিন্তু মাথা নোয়াল না। সে বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, ‘আমিই লিখেছি বাবা। আমি সজলকে ভালোবাসি।’

ঘরটা নিস্তব্ধ। দেয়ালঘড়িতে টিকটিক শব্দটা হঠাৎ বিকট শোনাল।

আলী নেওয়াজ হাসলেন। সে হাসিতে স্নেহ নেই, দাউ দাউ বারুদের আগুন আছে। ‘বাহ। আমার মেয়ে প্রেমে পড়েছে। তাও কার? একজন স্পাইয়ের। যারা আমার সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে চায়। যারা আমার লোকদের জেলে ঢোকায়। যে গতকাল আমার শত্রু ইরফানের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমার হিসাবের খাতা পুড়িয়েছে।’

‘সজল স্পাই, কিন্তু অমানুষ না বাবা।’ সম্পা শান্ত গলায় বলল। “ও সত্যের পক্ষে। আর তুমি… তুমি তওবা করেছো বাবা। তুমি এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ো। তুমি বলো, আল্লাহ ক্ষমা করবেন। তাহলে সজলকে কেন ক্ষমা করা যাবে না?’
আলী নেওয়াজ উঠে দাঁড়ালেন। জানালার কাছে গেলেন। বাইরে টেকনাফের পাহাড়। একসময় এই পাহাড় দিয়ে ইয়াবার চালান যেত। এখন যায় না। কিন্তু পুরনো হিসাব তো মুছে যায় না।

‘সম্পা।’ তিনি পেছন না ফিরেই বললেন, ‘মাফিয়া তওবা করলেও আন্ডারওয়ার্ল্ড তাকে ছাড়ে না। আমার মাথার দাম এখনও দুই কোটি টাকা। আমার পুরনো পার্টনাররা এখনও চায় আমি নিষ্ঠুরভাবে মরে যাই। আর তুমি যদি সজলকে বিয়ে করো, কাল সকালে পুলিশ আমার বাড়ি ঘিরে ফেলবে। কারণ সজল আমাকে ভালোবাসবে, কিন্তু তার ডিউটি আমাকে জেলে ঢোকানো।’

সম্পা উঠে বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। ‘বাবা, তুমি যদি সত্যিই বদলে যাও, তাহলে ভয় কিসের? পুলিশ এলে তুমি সব স্বীকার করবে। আল্লাহর কাছে মাফ চাইছ, মানুষের কাছেও চাও। জেল হলে জেল। আমি প্রতিদিন দেখা করতে যাব। কিন্তু তুমি আমাকে মিথ্যার মধ্যে বাঁচতে বলো না।’

আলী নেওয়াজ মেয়ের দিকে তাকালেন। এই মেয়ে তার কলিজা। যার জন্য তিনি কুরআন শরীফ বুকে নিয়ে কসম খেয়েছেন-আর খুন না, আর চালান না।

‘আর সজল?’ তার গলা নামল। ‘ও কি জানে তুমি আলী নেওয়াজের মেয়ে? নাকি তার কাছে আমার কথা লুকিয়েছো?’

সম্পা চোখ নামাল। এইখানে সে দুর্বল। ‘জানে বাবা… গত পরশু জেনেছে। লাইটহাউসের ঘটনার পর ইরফান স্যার ওকে সব বলেছে।

‘আর তারপর?’

‘তারপর ও আমাকে ব্লক করে দিয়েছে।’ সম্পার গলা কেঁপে গেল। সে বলছে, ‘সম্পা, আমি তোমাকে প্রোটেক্ট করতে পারব না। আমার ডিউটি আগে। তুমি মাফিয়ার মেয়ে, আমি পুলিশ। আমাদের মাঝে বিশাল সমুদ্র যা অতিক্রম করা আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

আলী নেওয়াজের চোখে এক মুহূর্তের জন্য কিছু একটা খেলে গেল। কষ্ট? নাকি স্বস্তি?

ঠিক তখনই কাশেমের ওয়াকিটকি বেজে উঠল। ‘বস, গেটে পুলিশ। ইরফান সাহেব আর… আর সজল সাহেব এসেছেন। বলছেন, আপনার সাথে জরুরি কথা।’

ঘরে বাজ পড়ল যেনো। সম্পার মুখ সাদা হয়ে গেল। আলী নেওয়াজ ধীরে ধীরে ঘুরলেন।

‘কতজন?’

‘দুইজনই বস। অস্ত্র নাই। খালি হাতে।’

আলী নেওয়াজ ১০ সেকেন্ড চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, ‘আসতে বলো। আর কাশেম, তুমি বাইরে যাও। দরজা চাপিয়ে রাখবা। গুলি চললে তখন ঢুকবা।’

‘বাবা!’ সম্পা ফিসফিস করল।

‘চুপ।’ আলী নেওয়াজ মেয়ের দিকে তাকালেন। ‘আজ ফয়সালা হবে। তুমি ওই ঘরে যাও। কিন্তু দরজা খোলা থাকবে। তুমি সব শুনবে। কারণ এই খেলা তোমাকে নিয়েই।’

সম্পা বাধ্য হয়ে পাশের ঘরে গেল। দরজা ভেজানো। বুকের ভেতর হাতুড়ি পিটছে।

দুই মিনিট পর ইরফান আর সজল ঢুকল। সজলের চোখ লাল। রাত জাগা। ইরফানের মুখে সেই চিরচেনা ঠান্ডা হাসি।

‘আসসালামু আলাইকুম, নেওয়াজ ভাই।’ ইরফান বলল। ‘বেয়াদবি মাফ করবেন। অনুমতি ছাড়া আসছি।’

‘ওয়ালাইকুম সালাম।’ আলী নেওয়াজ ইশারা করলেন। ‘বসো ইরফান। তুমি তো পুলিশ, তোমার অনুমতি লাগে না। আর তুমি?’ তিনি সজলের দিকে তাকালেন। ‘তুমি তো আমার মেয়ের… কি যেন বলে… হৃদয়ের গভীর অক্সিজেন?’

সজলের মুখ লাল হয়ে গেল। ইরফান কাশল। ‘ভাই, সোজা কথায় আসি। রবিন জেলে, কিন্তু তার ফোন আমরা ডিকোড করেছি। ওর নেঙ্ট টার্গেট আপনি। আর আপনার মেয়ে।’

আলী নেওয়াজের ভ্রু কুঁচকাল। ‘কেন?’

‘কারণ জামশেদ ভাবছে, আপনি গাদ্দারি করছেন।’ ইরফান ফাইল বের করল। ‘রবিন জেল থেকে মেসেজ পাঠাইছে- ‘বাবা, আলী নেওয়াজ আমাদের প্ল্যান লিক করছে তার মেয়ের নাগরের কাছে। সম্পাকে তুলে আনো। তাহলে আলী সোজা হবে।’

পাশের ঘরে সম্পা মুখ চেপে ধরল।

আলী নেওয়াজ চেয়ারটা শক্ত করে ধরলেন। ‘জামশেদের এতো বড় সাহস…’

‘সাহস না ভাই, মরিয়া সে।’ ইরফান বলল। ‘তাই আমরা আসছি। দুইটা প্রস্তাব নিয়ে। এক, আপনি আর সম্পা আমাদের সেফ হাউসে চলেন। কেস শেষ না হওয়া পর্যন্ত। দুই…’ ইরফান থামল। সজলের দিকে তাকাল। ‘দুই নম্বরটা সজল বলবে।’

সজল উঠে দাঁড়াল। আলী নেওয়াজের চোখে চোখ রাখল। গলাটা ভেজা, কিন্তু শক্ত।

‘আঙ্কেল, আমি জানি আপনি কে ছিলেন। আমি এটাও জানি আপনি এখন কী। সম্পা আমাকে আপনার তওবার গল্প বলেছে। আমি… আমি সম্পাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি পুলিশ। আমার কাছে দেশ আগে।’

সে একটু থামল। ‘তাই আমি প্রস্তাব দিচ্ছি-আপনি অ্যাপ্রুভার হন। সরকারের সাক্ষী। জামশেদ, রবিন, পুরা চক্রের বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দেন। বদলে আমরা আপনার পুরনো ফাইল বন্ধ করব। আপনি নতুন জীবন পাবেন। আর…’

‘আর?’ আলী নেওয়াজের গলা বরফ।

‘আর আমি কথা দিচ্ছি।’ সজল বলল, ‘সম্পার গায়ে আঁচড় লাগার আগে আমার লাশ পড়বে। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই আঙ্কেল। আপনার অনুমতি নিয়ে। আইন মেনে।’

ঘরে পিনপতন নীরবতা। বাইরে শুধু ঝিঁঝিঁর ডাক।

আলী নেওয়াজ হঠাৎ হেসে উঠলেন। সে হাসি শুনে সম্পার রক্ত ঠান্ডা হয়ে গেল।

‘বাহ! মাফিয়ার মেয়েকে বিয়ে করে স্পাই হিরো হবে? তারপর আমার সব খবর জেনে আমাকে জেলে ঢোকাবা? বাহ বেটা, গভীর জলের মাছ, খুবই চালাক আছো তুমি।’

‘বাবা!’ সম্পা দরজা ঠেলে বেরিয়ে এলো। ‘ও সত্যি বলছে! ওর চোখ দেখো!’

‘চোখ দিয়ে দুনিয়া চলে না মা।’ আলী নেওয়াজ বললেন। ‘দুনিয়া চলে বিশ্বাসে। আর আমি একজন স্পাইকে কীভাবে বিশ্বাস করি, যে আমার মেয়ের সাথে প্রেম করছে, আবার আমাকে জেলে ঢোকানোর শপথ নিছে?’

ইরফান এবার কথা বলল। ‘নেওয়াজ ভাই, আপনি ভুল করছেন। সজল যদি চাইত, কালই আপনার বাড়ি রেইড দিতাম। সম্পার ফোন ট্র্যাক করে সব প্রমাণ আছে। কিন্তু ও দেয় নাই। কেন জানেন? কারণ ও চায় আপনি নিজের মুখে সত্য বলেন। তওবা শুধু আল্লাহর কাছে না ভাই, মানুষের কাছেও করতে হয়।’

আলী নেওয়াজ মেয়ের দিকে তাকালেন। সম্পার চোখে পানি।

‘তুমি ওকে চাও মা, সত্যি কথাটা বলো মনের গহীন থেকে?’

সম্পা মাথা নাড়ল। ‘হ্যাঁ বাবা। ওর মতো সৎ মানুষ আমি দেখি নাই। ও যদি আমার হাত ছেড়ে দেয়, আমি মরে যাব।’

আলী নেওয়াজ চোখ বন্ধ করলেন। ২০ বছর আগের রাত মনে পড়ল। যেদিন প্রথম খুন করেছিলেন। যেদিন রূপা… না, থাক।
তিনি চোখ খুললেন। সজলের দিকে হাঁটলেন। সজল সোজা হয়ে দাঁড়াল।
ঠাস!

এক চড়। সজলের মাথা ঘুরে গেল। সম্পা চিৎকার করে উঠল, ‘বাবা!’

‘এইটা আমার মেয়ের চোখে পানি আনানোর জন্য।’ আলী নেওয়াজ ফিসফিস করলেন। তারপর সজলের কাঁধে হাত রাখলেন। ‘আর এইটা… আমার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ।’

সজল হতভম্ব। ইরফান মুচকি হাসল।

আলী নেওয়াজ সম্পার দিকে তাকালেন। ‘শোন মা, সূরা আসর তুমি আমাকে শুনাইছিলে। এখন আমি তোকে শুনাই। সময়ের কসম। আমি সময় নষ্ট করছি ২০ বছর। আর না।’ তিনি ইরফানের দিকে ফিরলেন। ‘আমি রাজি। আমি অ্যাপ্রুভার হবো। সব বলব। জামশেদের ইয়াবা রুট, রবিনের হ্যাকিং সার্ভার, সব। কিন্তু এক শর্ত।’

‘কী শর্ত ভাই?’

‘আমার মেয়ের বিয়েতে তুমি কাজী হবা ইরফান। আর সজল…।’ তিনি সজলের কলার ঠিক করে দিলেন। ‘তুমি যদি কখনো আমার মেয়েকে কষ্ট দাও, মনে রাখবা, মাফিয়া তওবা করলেও থাপ্পড় মারতে ভুলে না।’

সজল হেসে ফেলল। চোখে পানি। ‘জ্বি আঙ্কেল। কথা দিলাম।’

সম্পা দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরল। ‘বাবা, আমি জানতাম তুমি আলোর পথে আসবা।’

ইরফান ঘড়ি দেখল। ‘৩:১৭ বাজে। রবিনের প্রিয় সময়। কিন্তু আজ আর ওর সময় না। আজ আমাদের সময়। চলেন নেওয়াজ ভাই, স্টেটমেন্ট দিতে হবে। আর সজল, তুই সম্পাকে নিয়ে সেফ হাউসে যা। জামশেদ এখনও ফ্রি।’

সবাই বের হতে যাবে, তখনই আলী নেওয়াজের ফোন বাজল। অচেনা নম্বর। তিনি লাউডে দিলেন।

ওপাশে জামশেদের গলা। হাঁপাচ্ছে। ‘আলী, তোর মেয়েকে বাঁচাতে চাইলে একা টেকনাফের পুরান লাইটহাউসে আয়। সজলকে আনবি না। আনলে লাশ পাবি। সময় ৩০ মিনিট।’
লাইন কেটে গেল।

ঘরে আবার নীরবতা। সমুদ্রের জোয়ার শুরু হয়েছে। ভাটার টানও আসবে।

আলী নেওয়াজ ফোনটা পকেটে রাখলেন। তারপর সজলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘শুনছো তো বাবা? পরীক্ষা শুরু। এখন দেখি, স্পাই প্রেমিক নাকি মাফিয়া বাপ-কার টান বেশি।’

সজল পিস্তল বের করল। পিস্তলটা ইরফানের দেওয়া। সে আলী নেওয়াজকে বললো, ‘চলেন আঙ্কেল। আজ জোয়ার-ভাটা দুইটাই আমরা উল্টায় দেব।’

সম্পা দু’জনের হাত ধরল। ‘আমিও যাব। এইটা আমার লড়াইও।’

বাইরে পুলিশের গাড়ির সাইরেন বাজল। টেকনাফের আকাশে বিদ্যুৎ চমকাল। নতুন পর্বের খেলা শুরু-যেখানে ভালোবাসা, ডিউটি আর তওবা মুখোমুখি।

আলী নেওয়াজ যেতে যেতে বললো, ‘শয়তান আর ভালো মানুষের দ্বন্দ্ব চিরকাল চলে এসেছে, এটা চলবেই, এখন দেখবো কে শয়তান আর কে সাধু, বের করবো গর্ত থেকে কালো সাপ তারপর সেই সাপকে দুধকলা খাইয়ে চিরতারে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিবো।’ [চলবে…]

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ১ম পর্ব

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ খ্রি

You might like

About the Author: priyoshomoy