ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ৭

মিজানুর রহমান রানার ধারবাহিক থ্রিলার : অদৃশ্য আততায়ী। আজ লিখেছেন সপ্তম পর্ব।

সাত.
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
সাগরের জোয়ার যেমন প্রবলবেগে আসে তেমনি ভাটার টানটাও প্রবল হয়, এই টানের সামনে সাগর যা পায় তা-ই টেনে নিয়ে যায় তার বুকের মাঝে, এতে মানুষ বা যা-ই পড়ুক না কেনো কোথায় যে নিয়ে যায় সে নিজেও তা জানে না।

পৃথিবীটার আকর্ষণ ও বিকর্ষণ গতিটা এমনই ঠিক সাগরের জলরাশির মতো। মানুষের মধ্যে ভালোবাসার আকর্ষণ যখন শুরু হয় তখন তার শেষ ভালো বা খারাপ পরিণতি না দেখা পর্যন্ত মানুষ থেমে থাকে না। ভালোবাসার টানে পতঙ্গের মতোই একজন পুরুষ তার পছন্দের নারীর প্রতি ছুটে যায়, সামনে যা কিছুই আসুক তাকে ডিঙ্গিয়ে সমুদ্রের মতোই সব ভেঙ্গেচুরে একাকার করে দিয়ে যায়।

জোয়ারের আর মাত্র ২৩ মিনিট। সেন্টমার্টিনের পুরনো লাইটহাউসটা যেনো সমুদ্রের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক নিঃসঙ্গ দৈত্যের মতো। তার ভাঙা সিঁড়িতে শ্যাওলা, আর মাথার লণ্ঠনটা নিভে গেছে সেই কবে। অথচ আজ রাত ৩:১৭ মিনিটে ওটাই হতে যাচ্ছে রবিনের নতুন এক ভয়ঙ্কর খেলার স্টেজ।

গাড়ির ভেতর পিনপতন নীরবতা। ইরফান স্টিয়ারিংয়ে, পাশে অনন্যা, পেছনে ইমতিয়াজ, সজল আর তুষার। বাইরে ঝড় ওঠার আগের থমথমে বাতাস বইছে।

তুষার দাঁতে দাঁত চেপে বললো, ‘ইরফান ভাই, রবিন যদি তাসফিয়ার গায়ে একটা আঁচড়ও দেয়, আমি ওর নীল পদ্ম ওর কপালেই এঁকে দেব।’

কথাটা শুনে ইরফান এবার রিয়ারভিউ মিররে তাকাল। তারপর ফিসফিস করে বললো, ‘আগে ঠান্ডা মাথা, তুষার। রাগ দিয়ে দাবা খেলা যায় না। আর এইটা দাবা না, এইটা রাশিয়ান রুলেট। রবিনের ওসিডি ৩:১৭। ওই টাইমের আগে ও তাসফিয়াকে মারবে না। ও ভয়ঙ্কর খেলা খেলতে ভালোবাসে। আমরা ওর খেলাটাই উল্টে দেব।’

সজল জানালার বাইরে তাকিয়ে হঠাৎ হেসে ফেলল। সবাই তাকাল ওর দিকে।

‘হাসছিস কেন?’ অনন্যা ভ্রু কুঁচকাল।

‘ভাবছি, জামশেদ বাপ আর রবিন ছেলে, দু’জনেই ভয়ঙ্কর খুনি। অথচ নাম দেখো। জামশেদ মানে পাথর, আর রবিন মানে পাখি। পাথর থেকে পাখি জন্ম নিল কেমনে? ডারউইন বেঁচে থাকলে হয়তো নির্ঘাৎ হার্টফেল করত।’

এই সময়ের এক গম্ভীর পরিস্থিতিতেও ইরফান না হেসে পারল না। তারপর বললো, ‘তোর এই টাইমিংয়ের জোকসের জন্যে একদিন কেস সলভ হওয়ার আগে আমরা হাসতে হাসতে মরে যাব।’

‘মরার আগে একটা জ্ঞানের কথা শুনে যান স্যার’, সজল সিটে হেলান দিয়ে বললো, ‘লাইটহাউস জিনিসটা কী জানেন? আগে নাবিকরা রাতের বেলা দিক হারালে লাইটহাউসের আলো দেখে ক‚ল খুঁজত। আলো মানে ভরসা। কিন্তু এই লাইটহাউসটা ১৯৭১ থেকে নিভে আছে। যেমন রবিনের মনুষ্যত্ব। আলো নাই, তাই ও নিজেই দিক হারায়া ফেলছে।’

তুষার জানালার কাচে ঘুষি মারল, তারপর সজলকে বললো, ‘দর্শন পরে কপচাস। এখন প্ল্যান বল।’

ইরফান রেডিওতে কোড দিল, ‘টিম আলফা, লাইটহাউসের পূর্ব দিক কভার করো। টিম বিটা, পশ্চিমের ঝাউবন। মনে রাখবা, গুলি সেকেন্ড অপশন। ফার্স্ট অপশন তাসফিয়াকে জীবিত বের করা।’

তাসফিয়ার হাত-পা বাঁধা হলেও মুখে টেপ এঁটে দেয়নি। কারণ রবিন কথা শুনতে ভালোবাসে। সে সামনে একটা ল্যাপটপ খুলে বসেছে। স্ক্রিনে তুষারের ছোটবেলার স্কুলের রেজিস্টার। হ্যাক করেছে দুই মিনিটে।

‘আন্টি, শেষ ধাঁধা,’ রবিনের কণ্ঠে এআই ভয়েস, শুনলে গা শিরশির করে। ‘তুষার ক্লাস থ্রিতে থাকতে কার প্রেমে পড়ছিল? অপশন ক: ক্লাস টিচার, খ: পাশের বাসার পুতুল আপা, গ: নিজের জ্যামিতি বক্স।’

তাসফিয়া থুতু ফেলল, তারপর উত্তর দিলো, ‘তোর মতো সাইকোর ব্রেইনে প্রেম জিনিসটা ঢুকবে না। তুষার মানুষ ভালোবাসতে জানে, খুন করতে না বুঝতে পারছিস গাধা।’

রবিন হিহি করে হাসল। তারপর বললো, ‘ভুল উত্তর। পিন রেডি।’ সে একটা আলপিন তুলল।

ঠিক তখনই নিচ থেকে একটা গানের আওয়াজ ভেসে এলো। কেউ একজন গলা ছেড়ে গাইছে, ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়…’

রবিন ভ্রু কুঁচকাল। ‘এইটা আবার কোন পাগল?’ ক্যামেরা জুম করল। নিচে দাঁড়িয়ে আছে আরমান। হাতে মাইক, পাশে বুলবুল যেনো মহানন্দে একটা ঢোল বাজাচ্ছে।

আরমানের গলা, ‘ভাই রবিন, আমরা আলী নেওয়াজ বসের লোক। বস বলছে, তোমার খেলার আগে একটু গানবাজনা হোক। মরার আগে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার আর কি!’

রবিন খেঁকিয়ে উঠল, ‘এইটা ফাজলামির টাইম ব্যাটা, আমাকে থামিয়ে দিতে এসেছিস?’

‘না ভাই, এইটা সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার,’ বুলবুল চেঁচাল। ‘সুন তজু বলছে, শত্রæকে বিভ্রান্ত করো। তুমি ৩:১৭-তে খুন করো, এখন বাজে ৩:০২। তোমার মাথা আমরা হ্যাং করে দেব।’

রবিন ল্যাপটপে দ্রুত টাইপ শুরু করল। লাইটহাউসের নিচে লুকানো স্পিকারে বিকট শব্দ হলো। আরমান কান চেপে ধরল।
‘এআই সাউন্ড ক্যানন,’ অনন্যা রেডিওতে ফিসফিস করল। ‘ইরফান ভাই, রবিন টেক দিয়ে খেলে।’

ইরফান হাসল, ‘টেকের দাদাও আমাদের কাছে আছে। সজল, তোর সেকেন্ড ফোন বের কর।’

সজল ফোন বের করতেই ইরফান বললো, ‘তুই ডাবল এজেন্ট না, ট্রিপল এজেন্ট। বুঝতে পারছিস? এবার জামশেদকে মেসেজ দে, আর লেখÑ ‘বস, আপনার পুত্রধন রবিনকে মাফিয়া সম্রাট আলী নেওয়াজের লোক ঘিরে ফেলছে। আপনি না আসলে আপনার ছেলের নীল পদ্ম আজ নিজের রক্তে আঁকা হবে।’

জল চোখ বড় বড় করলো, ‘স্যার, আপনি কেমনে জানলেন আমি…’

‘তোর ফোনে ‘জে’ থেকে মেসেজ আসে, আবার তুই টিমের সব খবর জানিস। গাদ্দার হলে এতক্ষণে আমাদের গুলি খাইতি। তুই জামশেদের ভেতরে ঢুকে ওর প্ল্যান বের করিস। আমি জানি। এখন কাজ কর।’
সজল ঢোক গিলে দ্রæত মেসেজ পাঠাল।

আলী নেওয়াজের বাড়ি। সম্পা বাবার পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত শুনছিল। হঠাৎ ফোন বাজল। অচেনা নম্বর।

হ্যালো, সম্পা ম্যাডাম?’ ওপাশে কার যেনো একটা ফিসফিসানি। ‘আপনার বাবা মি. আলী নেওয়াজকে বলবেন, তার পুরোনো বন্ধু জামশেদ টেকনাফে মরতে যাচ্ছে। হিসাব বরাবর করতে চাইলে যেনো আসে।’ লাইন কেটে গেল।

সম্পা বাবার দিকে তাকাল। বাবা প্রশ্ন করলো, ‘কী হয়েছে মা? এমনভাবে তাকাচ্ছে কেন?’

‘বাবা, জামশেদ নামে কাউকে চেনো?’

আলী নেওয়াজের মুখ শক্ত হয়ে গেল। দেওয়াল ঘড়িতে টুটাং করে ৩:১০ বাজল।

‘চিনি মা। ২০ বছর আগের হিসাব।’ তিনি উঠে দাঁড়ালেন। ‘বডিগার্ডকে গাড়ি বের করতে বলো। আর তুমি দোয়া করো, আজ যেনো কোনো বাবার বুক খালি না হয়।’

সম্পা বাবার হাত ধরল, ‘বাবা, সূরা আসরের কথা মনে রাখবা। “সময়ের কসম, মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে। তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, সৎ কাজ করে, আর পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।” তুমি সত্যের পথে থাকবা, আল্লাহ আছেন।’
আলী নেওয়াজ মেয়ের কপালে চুমু খেলেন। ‘এই জন্যই তোকে নিয়ে আমার ভয় কমে যায় মা।’

লাইটহাউসে ৩:১৪ মিনিট। রবিনের হাতে ইনজেকশন। সে ধীরে ধীরে তাসফিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ‘সময় প্রায় শেষ আন্টি। আপনার নীল পদ্মটা কোথায় আঁকি বলুন তো? কপালে না হাতে?’

তাসফিয়া চোখ বন্ধ করল। তারপর মনে মনে বললো, ‘তুষার, আমাকে মাফ করে দিও…।’

ঠিক তখনই দরজা ভেঙে ঢুকল একটা ছায়া। না ইরফান, না তুষার বা ইমতিয়াজ।

এটা জামশেদ। সে বললো, ‘রবিন, থামো!’ জামশেদ হাঁপাচ্ছে। ‘পুলিশ, আলী নেওয়াজের লোক, সবাই ঘিরে ফেলছে। পালাতে হবে।’

রবিন ভ্রু কুঁচকাল, তারপর তাচ্ছিল্যের সুরে প্রশ্ন করলো, ‘তুমি কেমনে জানলা?’

‘সজল মেসেজ দিছে। ও আমার লোক।’ জামশেদ মিথ্যা বললো, কারণ সে শিউর জানে না সজল আসলে কার।
রবিনের চোখ চকচক করল। ‘তাহলে খেলা জমছে। বাবা, তুমি মেয়েটাকে নাও। আমি টাইম বোমা সেট করছি। ৩:১৭ তে ফাটবে। পুরা লাইটহাউস উড়ে যাবে। গোয়েন্দা টিমও শেষ।’

জামশেদ তাসফিয়াকে কাঁধে তুলল। নামার সময় ফিসফিস করল, ‘মা, ভয় পেও না। আমি খারাপ, কিন্তু বাপ। আমার সাইকো ছেলে রবিনরে আমি থামাতে পারি না, কিন্তু তোমারে মারতে দেব না। আমারও মেয়ে ছিল একটা…। নাম ছিলো রূপা।’
সিঁড়িতে নামতেই সামনে ইরফান, পেছনে তুষার। গান বন্ধ। আরমান-বুলবুলও পিস্তল তাক করে আছে।

ইরফান শান্ত গলায় বলল, ‘মাফিয়া গ্যাং জামশেদ ভাইজান, বহু বছর পর দেখা। হাতের মেয়েটারে নামায়া দেন। আপনার ছেলের খেলা শেষ।’

জামশেদ হাসল, ‘খেলা কখনোই শেষ হয় না ইরফান। খেলোয়াড় বদলায়।’ সে তাসফিয়াকে নামিয়ে দিল। তুষার দৌড়ে গিয়ে তাসফিয়াকে জড়িয়ে ধরল।

‘তুমি ঠিক আছো?’ তুষারের গলা উত্তেজনায় কাঁপছে।

তাসফিয়া হাসল, ‘তোমারর প্রেমিকার গল্প হ্যাক করেও রবিন একটা জিনিস জানতে পারে নাই। আমি ক্লাস থ্রি থেকে কারাতে জানি।’ সে হঠাৎ জামশেদের পায়ে লাথি মারল। জামশেদ কাতরে উঠল।

উপরে রবিন চেঁচাল, ‘৩:১৭!’ সে সুইচ টিপল। কিন্তু বোমা ফাটল না।

সজল হাঁপাতে হাঁপাতে ছাদে উঠে এলো। হাতে কাটা তার। ‘তোর এআই ভয়েস চেঞ্জার হ্যাক করছি, বোমার কোডও। তুই পিএইচডি ড্রপআউট, আমি সাইবার সিকিউরিটি সার্টিফাইড। তফাৎটা বুঝলি?’

রবিন গর্জে উঠে সজলের দিকে তেড়ে গেল। ধস্তাধস্তি। রেলিং ভেঙে দু’জনেই নিচে পড়তে লাগলÑঠিক তখন ইরফান আর আরমান দুই দিকে থেকে দু’জনের হাত ধরল।

আরমান দাঁত কিড়মিড় করে বললো, ‘বসের অর্ডার, জামশেদের হিসাব বাকি। তার ছেলেকে মরতে দিলে হিসাব মিলবে না।’
সবাই মিলে ওদের টেনে তুলল। হাতকড়া পরলো রবিনের হাতে। ৩:১৭ বাজল। লাইটহাউসে কোনো বিস্ফোরণ না, শুধু সমুদ্রের গর্জন।

জামশেদ হঠাৎ হাসল। ‘আমার ছেলেটা পাগল, কিন্তু মেধাবী। ওকে তোমরা শুধরাইতে পারলে কামে লাগবে।’

ইরফান বলল, ‘আইন শুধরাবে। আর মনোবিজ্ঞানী। প্রতিশোধ দিয়ে ক্ষত সারে না মি. জামশেদ। কারো কারো জন্য ক্ষমা দিয়ে সারে। আর যার জন্য ক্ষমা দিয়েও সারে না তারে তো বাঁশডলা দেওয়া লাগে। দেখি রবিনের ব্যাপারে কী হয়?’

দূরে একটা গাড়ির হর্ন। আলী নেওয়াজ নামলেন। তার পাশে সম্পা।

আলী নেওয়াজ জামশেদের দিকে তাকালেন। ২০ বছর আগের দুই বন্ধু, আজ দুই মেরুতে।

‘হিসাব বরাবর করতে আসছি জামশেদ,’ আলী নেওয়াজ বললেন। ‘তবে রক্ত দিয়ে না। তোর ছেলেকে আমি আমার স্কুলে ভর্তি করব। টেক দিয়ে মানুষ মারছে, এবার টেক দিয়ে মানুষ বাঁচানো শিখবে। রাজি থাকলে বল।’

জামশেদের চোখে পানি। ‘তুই এখনো সেই আলীই আছিস…।’

সম্পা তাসফিয়াকে জড়িয়ে ধরল। ‘আপু, তুমি অনেক সাহসী। সেলফ ডিফেন্স আমিও জানি, কিন্তু তোমার মতো কলিজা আমার নাই।’

তাসফিয়া হাসল, ‘কলিজা সবার থাকে বোন। ভয়ের সামনে দাঁড়ালেই বোঝা যায়।’

তুষার এসে তাসফিয়ার হাত ধরল। ‘আর কখনো তোমাকে একা ছাড়ছি না। প্রমিস।’

‘আমি একা ছিলাম কই?’ তাসফিয়া ইরফান, অনন্যা, সজল, আরমান সবার দিকে তাকাল। ‘আমার পুরা টিম ছিলো।’

সজল পকেট থেকে নীল পদ্মের স্টিকার বের করল। ‘এইটা রবিনের পকেটে পাইছি। ও লিখছে “৪ নম্বর”।’

অনন্যা স্টিকারটা নিয়ে সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলল। ‘খেলা শেষ। এখন থেকে নীল পদ্ম শুধু বিয়ের কার্ডেই থাকবে, খুনের সিনে না।’
ইরফান আকাশের দিকে তাকাল। ভোরের আলো ফুটছে। নিভে যাওয়া লাইটহাউসটার মাথায় যেন নতুন সূর্য উঠল।

‘বুঝলা তুষার,’ ইরফান বললো, ‘সময়ের ঝাঁতাকলে সবাই নিঃশেষ হয়, আলী নেওয়াজ বস ঠিকই বলছে। কিন্তু কেউ কেউ যাওয়ার আগে আলো জ্বালায়া যায়। আজ আমরা একটা আলো জ্বালাইলাম।’

আরমান হাই তুলল, ‘স্যার, আলো জ্বালানো শেষ। এখন বিরিয়ানি খাওয়া যাবে? সারারাত গান গেয়ে পেটে ছুঁচো দৌড়াচ্ছে।’
সবাই হেসে উঠল। সমুদ্রের বাতাসে সেই হাসি মিশে গেল। লাইটহাউসটা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলÑসাক্ষী হয়ে, যে অন্ধকারের শেষেও আলো আসে, প্রতিশোধের শেষেও ক্ষমা থাকে, আর ভয়ের শেষেও ভালোবাসা জেতে।

রবিন ও জামশেদকে গাড়িতে তোলা হচ্ছে, রবিন চেঁচিয়ে বললো, ‘এই যাত্রাই শেষ নয়, আমি আবার ফিরে আসবো, তারপর নেক্সট গেইম চালু করবো, তখন আর তোমরা সবাই মিলেও আমাকে ধরতে পারবে না। কিছুদিন শুধু বিরতি নিচ্ছি।’

কথাটা শুনে জামশেদ হেসে উঠলো, তারপর বললো, ‘বাপকা বেটা, সেপাইকা ঘোড়া, এই না হলে আমার ছেলে, ভবিষ্যতে আমার মুখ উজ্জ্বল করবে।’

আলী নেওয়াজ কথাটা শুনে উত্তর দিলো, ‘আসলে কুকুরের লেজ কখনোই সোজা হয় না। এরা শয়তানের দোসর, আর শয়তান দোযখে না যাওয়া পর্যন্ত শান্ত হবে না।’

ইরফান রবিকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে ঢোকালো। তাসফিয়া বললো, ‘সত্যিই যার অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই, তারা সবই করতে পারে।’

ইরফান গাড়িতে উঠে রবিন ও জামশেদকে বললো, ‘চৌদ্দ শিকের ভেতরে যখন বাঁশডলা খাবে, তখন নিজের নামটাই ভালো যাবে, তারপর দেখবো কত ধানে কত চাল।’

রবিন মুচকি হাসলো, সে জানে কারাগার তাকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারবে না, সে বের হবেই, আর তার মতো করেই সে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে।’ (চলবে)

১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy