নারী কেলেঙ্কারিতে গণধোলাই: মুচলেকায় ফরিদগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের মুক্ত ডিজিএম

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। সর্বশেষ নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান তিনি। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তার ছবি দিয়ে নানাজনকে মন্তব্য বরতে দেখা গেছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের অনিয়ম, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ গ্রাহক ও তার স্বেচ্ছাচারিতার শিকার লোকজন ফুঁসে উঠেছে।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ মাস আগে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে ডিজিএম হিসেবে যোগ দেন মো. সাইফুল আলম। যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি অনিয়মিত অফিস ও স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেন। নানা সমস্যার ভুক্তভোগী গ্রাহকদের জিম্মি করে নানা প্রলোভনে অনৈতিক প্রস্তাব দেন।

এমনই এক ভুক্তভোগী ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা এলাকার এক নারী গ্রাহক। তাঁর বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে ডিজিএমের কার্যালয়ে গেলে ডিজিএম তাঁকে কৌশলে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী প্রথমে রাজি না হলেও বিদ্যুতের সেবা পেতে পরবর্তীতে রাজি হন। এরপর গত মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) রাতে তাঁকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দেয়।

এর আগে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চির্কা গ্রামের ব্যবসায়ী ফরিদ মিজি পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ঘুষ গ্রহণের বিচার চেয়ে গত ১২ মে ২০২৬ দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি জানান, পল্লী বিদ্যুতের সেবার জন্যে রসিদের বাইরে অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা ডিজিএম তাঁর কাছ থেকে নিয়েছেন।

কমলকান্দি গ্রামের এক গ্রাহক জানান, অতিরিক্ত বিল আসায় অফিসে গেলে তাকে আবেদন করতে বলা হয়। আবেদন নিয়ে ডিজিএমের কাছে গেলে তিনি বলেন, বোরকার মুখোশ খুলতে। এ সময় তাঁর কথায় সাড়া না দিলে ডিজিএম অসদাচরণ করেন।

সাহেবগঞ্জ গ্রামের কাউসার আহমেদসহ কয়েকজন জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক গ্রামবাসীর বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে দালালের মাধ্যমে ঘুষ দাবি করেন ডিজিএম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তা ও একাধিক কর্মচারী বলেন, ডিজিএম নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করেন, প্রতিবাদ করলে চাকরি হারানোর ভয় দেখান।

ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ও অ্যান্ড এম) মোহাম্মদ নাজির উল্লাহ নারী কেলেঙ্কারিতে জনতার হাতে আটকের পর মুচলেকায় ডিজিএমের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে ডিজিএম মো. সাইফুল আলম বলেন, আমি কোনো বক্তব্য দেবো না।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ৪ নং এলাকার সাবেক সভাপতি আলী আজম রেজা বলেন, ডিজিএমের অসদাচরণ ও নানান অনিয়মের বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে প্রতিবাদ করেছি এবং পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডকেও জানিয়েছি। এখন নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টিও জিএমকে জানিয়েছি, আশা করি তিনি ব্যবস্থা নিবেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ডিজিএমের বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে মৌখিক অনেক অভিযোগ পেয়েছি, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি এ জেলায় নতুন যোগদান করেছি। ডিজিএম সাইফুল আলমের বিষয়ে খোজখবর নেবো, অনিয়ম পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকাশিত : বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy