

মাকসুমুল মুকিম, দোহার -নবাবগঞ্জ (ঢাকা) ::
মহান জাতীয় সংসদে জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণার প্রস্তাবক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, ঢাকা-১(দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানকে দোহারবাসীর পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা প্রদান এবং জয় বাংলা উৎসব পালন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার(২২ মার্চ, ২০২২ইং) ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বড় মাঠে(জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ) সন্ধ্যা ৬ টায় গণসংবর্ধনা প্রদান এবং জয় বাংলা উৎসব পালন করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমান বলেন, জয় বাংলা শুধু আমরাই বলি,অন্যরা বলে না। তাই আমি সংসদেও স্পিকারের কাছে দাবি জানিয়ে ছিলাম জয় বাংলাকে জাতীয় শ্লোগান করার জন্য। মন্ত্রী পরিষদে এটা অনুমোদন দেওয়া হয়, তাই এটি এখন জাতীয় স্লোগান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের স্বাধীনতার দলিল। যেটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ‘জয়বাংলা’ স্লোগানই হলো আমাদের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। এর জন্যই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলার। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৭ই মার্চের ভাষণ চালাতে পারত না মানুষ, তা বন্ধ করা হয়েছিল। আজ এই ভাষণ এবং জয়বাংলা স্লোগানের স্বীকৃতিই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যখন কাজ শুরু করেছিলেন তখন তাকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ২১ বছর ক্ষমতায় ছিলেন তারা দেশের উন্নয়ন চায়নি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগে ক্ষমতায় আসার পর দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এখন আমাদের দেশের মাথাপিছু আয় ভারতের চেয়েও বেশি। তাই দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় রাখতে হবে।
সালমান এফ রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলাম দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা হবে বাংলাদেশের রোল মডেল। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। দুই উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। ইনশাল্লাহ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের রোল মডেলে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চের ভাষন সংরক্ষণ দোহারের আমজাদ আলী খন্দকার কে ফুলেল শুভেচছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চিত্র নায়ক ফেরদৌস ও চিত্র নায়িকা পূর্ণিমার উপস্থাপনায় গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের সুনামধন্য ব্যান্ড নগর বাউলের জেমস্, বাংলার ফোক গানের সম্রাজ্ঞী কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, গান বাংলা চ্যানেলের কর্ণধার কৌশিক হোসেন তাপস সহ অনেকে। নৃত্য পরিবেশন করেন চিত্র নায়িকা বিদ্যা সিনহা মীম সহ আরও অনেকে।
সাবেক আইজিআর খান মো. আব্দুল মান্নান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন সহ আরো অনেকে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমান সংসদ সদস্য হিসেবে তার প্রথম বক্তব্যে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণার দাবি তুলেছিলেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোাগান ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২রা মার্চ জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয় বাংলা’র সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেন।










